তরুণরা মহামারি থেকে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী

তরুণরা মহামারি থেকে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী
  © টিডিসি ফটো

দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী আর দেশী-বিদেশী গবেষক, অধ্যাপকদের অংশগ্রহণে অনলাইনে ন্যাশনাল সামিট শুরু করেছে দেশের তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন স্টুডেন্টস এগেইন্স্ট ভায়োলেন্স এভ্রিহয়ার (সেভ ইয়ুথ) বাংলাদেশ।

তরুণ নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, মাইক্রো গভার্নেন্স রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ ও সেভ ইয়ুথ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ প্রমিজ লিডারশিপ-২০২০’ শীর্ষক এই সামিটের উদ্বোধন করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্ট্ররাল সিস্টেম, ইউকে এইড, কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সামিটের উদ্বোধন দিনে অক্সফোর্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন গবেষক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এন্ডি ম্যাককেই, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. রওনক জাহান, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম্বাসেডর হুমায়ুন কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্ট্ররাল সিস্টেম এর এশিয়া প্যাসিপিক এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ভাসু মোহন, সংগঠনটির বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার কান্ট্রি ডিরেক্টর সিলজা প্যাসিলিনা প্রমুখ।

‘করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে সামিটের উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশের তরুণদের সমতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতার মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নিজেদের জীবন পরিচালনার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘৪৮ বছর পূর্বে দেশের স্বাধীনতার জন্য যেভাবে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে সেই সময়ের মতো উদ্দীপ্ত হতে হবে। বঙ্গবন্ধু সব সময় তারুণ্যের উপর বিশ্বাস রেখেছেন, যার মাধ্যমে সমাজে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

করোনাকালে তরুণদের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণরা এই মহামারি থেকে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে। আর এখনই সময় নিজেকে একজন বিশ্ব নাগরিক হওয়ার। তাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিশতে পারবে। একই সাথে নারী পুরুষের ভেদাভেদ দূর হবে।’

সামিটের দ্বিতীয় দিনে সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিলো করোনাকালীন তরুণ গবেষকদের করা গবেষণাকর্ম উপস্থাপন। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫মিনিট থেকে রাত দশটা পর্যন্ত দুই ধাপে যুক্ত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক ও সেভ ইয়ুথ ফেলো।

সামিটের বিষয়ে সেভ ইয়ুথের মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘সময়ের সব বাস্তব অবস্থার সাথে পরিচিত করাতে এবং খাপ খাইয়ে নিতে দেশীয় তরুণদের একত্র করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সামিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।’

তিনি জানান, দু’দিনে মোট ৩২ জন সেভ ইয়ুথ ফেলো বাংলাদেশে করোনার প্রভাব সম্পর্কে তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করছেন। এর মাধ্যমে একটি সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নেতৃত্ব বিকশিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম।


মন্তব্য