শখে ফ্রিল্যান্সিং শিখে হাজারো তরুণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মাহাদী

শখে ফ্রিল্যান্সিং শিখে হাজারো তরুণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মাহাদী

মুনতাসির রহমান মাহাদী একজন তরুণ উদ্যোক্তা। আশুগঞ্জ আগাখান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পড়েছেন সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতেও। বর্তমানে একজন ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহের সম্ভাবনা এবং এ সেক্টরকে কেন্দ্র করে নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেন মাহাদী। আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরছেন আসিফ আহমেদ তন্ময়

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ক্যারিয়ার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং সেক্টরকে কেন বেছে নিলেন?

মাহাদি: অনেকটা শখের বশেই আমার এ সেক্টরে আসা। ছোটবেলা থেকেই আমার অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করার অভ্যাস ছিল। ছাত্রজীবনে আমি নিজের হাত খরচের টাকা জোগাতে অনলাইনের বিভিন্ন আর্নিং সোর্স নিয়ে রিসার্চ করতে শুরু করলাম। এভাবেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে আমার পরিচয়। যখন বুঝতে পারলাম এ সেক্টরে কাজ করে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে: আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষেরই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। সে অর্থে আপনি আপনার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত কী কী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং সেগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠেছেন?

মাহাদী: ফ্রিল্যান্সিংয়ে বেশিরভাগ মানুষ প্রথমত যে অসুবিধার সম্মুখীন হয় তা হল নিজের ডিভাইস (ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ) না থাকা। এক্ষেত্রে আমি অনেকটা ভাগ্যবান যে আমাকে এ ধরণের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজটা শিখতে গেলে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করা দরকার তা আমার তখন ছিল না। যথাযথ গাইডলাইনেরও অভাবও ছিলো। ইচ্ছা শক্তির জোরেই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি বলে আমি মনে করি। সত্যিকথা বলতে নিজের প্রচন্ড আগ্রহশক্তি থাকলে যে কোন ধরণের প্রতিকূলতাই কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন ধরণের কোর্স অফার করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনি মানুষের কেমন সাড়া পাচ্ছেন আর এটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মাহাদী: আমি মার্কেটিং ও বিজনেস রিলেটেড কোর্স করিয়ে থাকি। বর্তমানে প্রায় ৮০০ জন আমার কোর্সগুলো করছেন। আমি আমার কোর্সগুলোতে লার্নাসদের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একজন ফ্রেশার ক্যারিয়ার শুরু করা থেকে কীভাবে মার্কেট প্লেসে টিকে থেকে আয় করবে সে সব ব্যাপারেই দিক নির্দেশনা দিয়েছি। আমার অনেকে শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ফাইবার সহ অনান্য মার্কেটপ্লেসে উপার্জন করছেন। অনেকে নিজের ব্রান্ড ক্রিয়েট করছে। ভবিষ্যতে আমি আরো বেশি মানুষের কাছে আমার কোর্সগুলো যতোটা কম খরচে পারা যায় সেভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মূলত ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলাম একজন প্রশিক্ষক হিসেবে সেগুলো দূর করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে চাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

মাহাদী: এ সেক্টরে কাজ শেখার কোন বিকল্প নেই। আপনি যদি ভালোভাবে কাজ না শিখে আসেন তাহলে আপনি কোন কাজই পাবেন না। আমাদের দেশে একটা প্রবণতা দেখা যায় সেটা হল আমরা সাধারণত ভালোভাবে কাজ শেখার আগেই অর্থ উপার্জন নিয়ে ভাবি যা অনেকক্ষেত্রেই ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। আপনাকে প্রতিনিয়তই নিজের স্কিল বাড়িয়ে যেতে হবে। আসলাম আর হুট করে টাকা কামালাম এ মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন যারা আসবেন তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো ধারাবাহিকভাবে কাজ করে গেলে তবেই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সাফল্য মিলবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনাকে ধন্যবাদ
মাহাদী: ধন্যবাদ


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ