আলো ছড়াতে চান বেদের মেয়ে ওয়াহেদীনা

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ AM

© সংগৃহীত

সাভারের বেদে পল্লীর ওয়াহেদীনা। বাবা পেশায় একজন সাপুড়ে আর মেয়ে কলেজের মেধাবী ছাত্রী। হাইস্কুলের গণ্ডি পার হয়ে এখন সে কলেজে পড়ছে।

উচ্চশিক্ষার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় ওয়াহেদীনা। নিজ সম্প্রদায়ের মাঝেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চান এই তরুণী। কুসংস্কার আর গোঁড়ামি থেকে নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনকে মুক্ত করে তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছে ওয়াহেদীনা।

সাভারের পোঁড়াবাড়ির বেদে পল্লীর মধ্যভাগে ছোট অমরপুর জেটিতে (মহল্লায়) তাদের বাস। বাবা অহিদুল ইসলাম। সারা বছরই সাপ ধরা আর সাপ খেলা দেখানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চষে বেড়ান দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলা। এটাই তার পেশা। বাপ-দাদার আদি পেশা এই সাপ খেলা দেখানো ছাড়া অন্য কোনো কাজও জানা নেই অহিদুলের। লোকে কে কী বলল এতে তার কিছুই যায়-আসে না। তবে সাপুড়ে পেশাটাই যেন তার কাছে সবচেয়ে সম্মানের।

তিন সন্তানের জনক অহিদুলের এক ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে ওয়াহেদীনা দ্বিতীয়। শৈশবে স্থানীয় বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি পাঠের ইতি টেনে ভর্তি হয়েছিল বেদে পল্লীর বাইরে গিয়ে সাভারের আড়াপাড়ার স্বর্ণকলী আদর্শ বিদ্যালয়ে। ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে ওয়াহেদীনা ভর্তি হয়েছেন সাভার মডেল কলেজে। ব্যবসা শিক্ষা শাখায় এইচএসসিতে প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী হিসেবে কলেজের সবার কাছেই একনামে পরিচিত সে।

ওয়াহেদীনা জানায়, বাবার সাপুড়ে পেশার বিষয়টি শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে গোপন রাখতেই সে চেষ্টা করে। ক্লাসে শিক্ষকেরা কেউ বাবার পেশা জানতে চাইলে সে বলে তার বাবা ব্যবসা করেন। কিন্তু ব্যবসার ধরন জিজ্ঞেস করলে তখন সে সঠিক তথ্যটিই জানায়।

ওয়াহেদীনার প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন নামের এক বেদেসর্দার জানান, বেদে পল্লীর শিশুদের অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা শিখতে হয়। কারণ বেদেরা সাধারণত সারা বছরই দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করে থাকেন। সাপ খেলা দেখানো, সাপ ধরা কিংবা ঝাঁড়ফুঁকের ব্যবসা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকেন। বেশির ভাগ বেদেই তাদের সন্তানদের সাথে নিয়ে যান ব্যবসার সময়। জীবিকার সন্ধানে সপরিবারে ছুটে যান বিভিন্ন জেলা-পাড়া-মহল্লায়।

তিনি আরো জানান, কোনো একস্থানে স্থায়ীভাবে না থাকার কারণে বেদেদের সন্তানরা সুষ্ঠুভাবে পড়ালেখা করতে পারে না। আবার অনেক বেদে বাবা মা তাদের সন্তানদের তাদের এই একই পেশায় প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবন-জীবিকার পথ করে দিতে চান। সন্তানদের পড়ালেখায় তারা আগ্রহ দেখান কম।

ওয়াহেদীনার বিষয়ে এই এই বেদেসর্দার আরো জানান, ওয়াহেদীনা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। সে আমার পাশের বাড়িরই সন্তান। ওর বাবা বাড়িতে থেকে ওকে আরো বেশি সময় দিলে ওয়াহেদীনা পড়ালেখায় হয়তো আরো ভালো করতে পারত।

বেদে পল্লীর বেশ কয়েকটি এলাকার মধ্যে রয়েছে- ছোট অমরপুর, বড় অমরপুর, কাঞ্চলপুর ও পোঁড়াবাড়ি এলাকা। এসব এলাকার বয়ষ্ক লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, এখানকার শিশুদের পড়ালেখার হার খুবই কম। চরম দারিদ্র্য আর অসচেতনতার কারণে সাপুড়ে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে দিতে আগ্রহী নয়।

বাস্তব কারণেই বাপ-দাদার পেশা হিসেবে তারা নিজেদের সন্তানদেরও একই পেশায় রাখতে চায় বেদে পরিবারগুলো। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে বলেও জানান তারা। স্কুলে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁকও বাড়ছে বেদেদের।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ বছরের ইতিহাসে ৬ উপাচার্যের পাঁ…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের সার্চ কমিটিতে শিক্ষা সচিব, দুই…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি ঘোষণা বাংলাদেশের
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
সংবিধান সংস্কারে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবো: বিরোধী দ…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
ওমরাহ ফেরত মাকে নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, নিহত কিশোর
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
যে ৭ কারণে বাহাত্তরের সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চান এনসিপি নেত্রী
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence