ঈদের টাকায় মশারি কিনে অসহায়দের পাশে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

একদিন পর পবিত্র ঈদুল আযহা। সারাদেশের মানুষ ব্যস্ত কুরবানির পশু ও ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। ঠিক সেই সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অসহায়দের পাশে দাঁড়ালেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের পরিচালিত সেচ্ছাসেবী সংগঠন চলোপাল্টাই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে  ঢাকার রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয় মশারি।

নোবিপ্রবির চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এস কে ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে সদস্যরা শনিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় পড়ে থাকা লোকদের মাঝে মশারি বিতরণ করে। এসময় ঢাকা মেডিকেল,শহীদ মিনার, নিউমার্কেট, চানখারপুল, হাইকোর্টে, জিরোপয়েন্ট এবং গুলিস্তান এসব এলাকায় খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় শুয়ে যাওয়া অসহায় লোকদের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি।

বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশ বেড়েছে। সরকারি-বেসরকারি হিসেবে সারাদেশে শতাধিক লোক মারা যায় ডেঙ্গু জ্বরে। ঢাকায় এ রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে খুবই দ্রুত। শহরের উঁচু পর্যায়ের লোকেরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিলেও আক্রান্ত হয়েও রোগের ধরণ জানেন না রাস্তায় থাকা লোকজন। তাই এদেরকে সচেতন করার লক্ষ্যে সিপিএফ’র সদস্যরা তাদের ঈদ শপিং থেকে বাঁচানো টাকা সংগ্রহ করে মশারি কিনে বিতরণ করে ও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে ।

মাশারি বিতরণ সম্পর্কে চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন,নোবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা এস কে ফয়সাল আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে যখন ঢাকার মানুষ অতিষ্ঠ তখন শহরের বড়লোক মানুষরা ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্ত রাস্তায় পড়ে থাকা ওই মানুষগুলো? ওদের কি হবে? ওদেরকে বাঁচাবে কে? মূলত এই চিন্তা থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমাদের ঈদের শপিং থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে ওই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর। এরই চিন্তা স্বরুপ আমরা ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় থাকা কিছু মানুষকে মশারি বিতরণ করি। এবং আমরা আশা করি, আমাদের মত আরো যারা শিক্ষার্থী আছে তারাও অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে।’


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ