সফলতার আরেক নাম ইচ্ছাশক্তি

  © টিডিসি ফটো

প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। তিন বেলা খাওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের ছিলনা। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করেছি নিজে পরিশ্রম করে ও গ্রামের একটি শিক্ষকের সহযোগিতায়। পিতা-মাতার স্বপ্নকে লালন করতে থাকি।

তাদের একটাই স্বপ্ন ছিল ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সুশিক্ষা অর্জন করে দেশের সেবা করবে। প্রথমটা অর্জন করলেও দ্বিতীয়টা অর্জন করার সক্ষমতা এখনো হয়নি, তবে ভবিষ্যতে পূরণ করবো। এমন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য আমি এগিয়ে যায়।

যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তাম তখন থেকেই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়। নিজে পরিশ্রম করে ফরমের টাকা যোগার করতাম। অবশেষে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিও পেয়েছিলাম। এরপর ধাপে ধাপে চলতে থাকে সংগ্রাম। এসএসসি পরীক্ষায়ও বোর্ড বৃত্তি পেয়েছিলাম। এইচএসসি পড়া কালে পিতা মৃত্যু বরণ করে, নেমে আসে আধার কিন্তু তারপরও থেমে থাকিনি জীবন সংগ্রামে। যেকোন কাজকে সম্মান রেখে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ফরম ফিল আপ করে এইচএসসি সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হয়।

এরপর আসে ভর্তি পরীক্ষা। টাকা ছিলোনা, কিন্তু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম স্যার আমাকে কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দেয়, অল্প কিছুদিন ক্লাস করে পরিবারের আর্থিক অনটনের জন্য ফিরে যেতে হয় গ্রামে। তারপরে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু আমার ইচ্ছা শক্তি ছিলো প্রবল। পড়াশোনা না করে প্রথমে ২০১৭-২০১৮ সেশনে ভর্তি পরীক্ষা দেয় তিন জায়গায়, ঢাবি, জাবি, জবি।

কিন্তু জবিতে আমার ২৭৯০ সিরিয়াল আসে, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আমাকে বিষয় নির্ধারণ করে দেয়। খোজ না নেওয়ায় ভর্তি হতে পারিনি সেখানে।

এরপর দ্বিতীয় সময় অর্থাৎ ২০১৮-১৯ সেশনে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকি বাড়ি থেকে। ভর্তির ফরম তোলার জন্য বাড়ি দুটি ছাগল পালন করতে থাকি। যেহেতু ইচ্ছাশক্তি প্রবল ছিলো তাই গ্রামের মনিরুল স্যারকে বলে কিছু টাকা নিয়ে বই ক্রয় করেছিলাম। মনিরুল স্যার সেই সময় থেকে আমার পাশে থাকতেন। তাই এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে। চার জায়গায় ফরম তুলেছিলাম প্রতিটি জায়গায় ম্যারিট ছিল, বিষয়ও পেয়েছি। তবে আমার কয়েকটি প্রিয় বিষয়ের মধ্যে একটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। তাই এখানেই ভর্তি হয়ে যায়। পরবর্তীতে মাইগ্রেশনের ভিত্তিতে পেয়েও গেলাম তাই। এভাবেই চলতে থাকে সংগ্রাম, এখনো থেমে থাকিনি। দেশের সেবা করার জন্য সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

তোমরা যারা পরীক্ষা দিবে ২০১৯-২০ সেশনে তাদের উদ্দেশ্যে বলি প্রবল ইচ্ছা শক্তি পারে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতে। সর্বশেষ,তোমাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

শিক্ষার্থী: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ