ডুজা সম্পাদকের ওপর ইউপি সদস্যের হামলা, বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা

  © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি’র (ডুজা) সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ইমরান ও তার পরিবারের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রোববার (২ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিন্দা জানানো হয়। এ সময় হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

জানা গেছে, কুরবানির দিন গরীবদের মাংশের নির্দিষ্ট অংশ যথাযথ বণ্টন না করার প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার অন্তর্গত বাঁশবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আজিজুর রহমান ও তার লোকজন ডুজা সম্পাদক ইমরান ও তার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসাইন এবং তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় ইমরানের মাথা ফেঁটে যায়।

ইমরান জানান, ঈদের দিন ওই এলাকায় অসহায় ও দুস্থদের জন্য জনগণ থেকে সংগৃহীত কুরবানির মাংস বন্টন শেষে প্রায় ২০ কেজি মাংস আজিজুর নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রেখে দেন। তার বাবা এর প্রতিবাদ করলে বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে ইমরান ও তার ছোট ভাই আকরাম এগিয়ে গেলে আজিজুর (মেম্বার) তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইমরানসহ তার ছোট ভাই আকরাম হোসাইন গুরুতর আহত হন।

এদিকে এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য (মেম্বার) আজিজুর রহমান জানান, আমার উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভুয়া এবং মিথ্যা। আমি তার যথার্থ বিচার দাবি করছি। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আমাকে মাংস বণ্টনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি তার দেওয়া দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সাথে আরও ১০-১২ জন কাজ করছিলো।আমি তাকে কিছু করিনি। হয়তবা এলাকার কোন দুষ্কৃতকারী ইমরান ও তার পরিবারের উপর হামলা করতে পারে।

মাংস আত্মসাতের বিষয়টি সম্পর্ক জিজ্ঞেস করলে আজিজুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন ,‘‘গরিবের মাংস আমি নিজে আত্মসাৎ করব, অসম্ভব ব্যাপার। আপনারা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টা ক্লিয়ারলি জানেন। ওই মাংস আমি নিজের জন্য নিইনি। মাংস বিতরণ শেষে ১৩ প্যাকেট থেকে যায়। আমরা সেগুলো অন্য গ্রামে গরিবদের মধ্যে বিতরণের জন্য নিয়ে যাই।

এবিষয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক মণ্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছে। ঐখানে ডাক্তারের সাথে আছি। আমি ইমরানের ওপর হামলার বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ আমাকে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ করেনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য মহেশপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়জুদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয় মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। আমরা ইমরান ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছ।এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এদিকে ডুজা সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ (ডুজা) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

ডুজার সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবিরের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীর আস্থা ও ভরসার আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ইমরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনপূর্বক সংগঠনটি ধিক্কার জানাচ্ছে।

এর সাথে প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত জড়িত ইউপি মেম্বার আজিজুর এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার।’’

‘‘অন্যথায়, বাংলাদেশের অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন ‘বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন’র সদস্য সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রেখেই স্থানীয় এবং দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে বলছি, দাবি আদায়ে আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না, যাতে দেশব্যাপী এই করোনা সংকটের ভেতরেও জনগণের জীবনযাত্রা ব্যহত হয়।’’

এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনটির ঢাবি সংসদের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম।

এছাড়া এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য