সময় দু’মাস, যেভাবে নেবেন নিবন্ধনের লিখিত প্রস্তুতি

১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল গত ১৯ মে প্রকাশ করা হয়েছে। এবার উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার পরীক্ষার্থী। পাসের হার ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভাগ। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০১৮ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই পরীক্ষায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ জন প্রার্থী ১৯ এপ্রিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের দ্বিতীয় ধাপে ২৬ ও ২৭ জুলাই ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

সময় কারো জন্যই থেমে থাকে না। তাই এখন লিখিত পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার সময়। এসময় একটু মনোযোগের সাথে ভালভাবে প্রস্তুতি নিলে লিখিত পরীক্ষায় ভাল করার সুযোগ রয়েছে। তবে দেরি না করে আপনার শতভাগ দিয়ে আজই শুরু করে দিন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ঐচ্ছিক বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের তিন ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বইগুলো এবং কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে অনার্স পর্যায়ের বইগুলো পড়া যায়। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর লিখিত পরীক্ষার সহায়ক অনেক বই পাওয়া যায়। তবে বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে আপনি দিকদর্শন প্রকাশনীর ‘বেসরকারি শিক্ষক/প্রভাষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার সহায়িকা’ সিরিজের বই পড়তে পারেন। এতে স্বল্প সময়ে আপনি লিখিত পরীক্ষা সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।

এ ছাড়া বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে সেখান থেকে ভাল একটা ধারণা পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষায় রচনামূলক প্রশ্ন থাকে পাঁচটি। প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকে ১৫। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে পাঁচটি। প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকবে।

বাংলা
স্কুল ও স্কুল-২ পর্যায়ে বাংলা অংশে ভালো করতে হলে ব্যাকরণে জোর দিতে হবে বলে জানান মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক সানজিদা খাতুন। তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই উত্তীর্ণ হন। তিনি বলেন, ব্যাকরণের প্রায় প্রতিটি অধ্যায় থেকে এক থেকে দুটি প্রশ্ন আসে। এসব অধ্যায়ের মধ্যে ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, বাগধারা ও বাগবিধি, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ, অনুবাদ, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক, বিভক্তি, সমাস ও প্রত্যয়, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাক্য সংকোচন, লিঙ্গ পরিবর্তন অধ্যায়গুলো ভালোভাবে পড়লে প্রশ্ন পাওয়া যাবে। আর কলেজ পর্যায়ের জন্য পড়তে হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইগুলো। এসব বইয়ের গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতি সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো করা যাবে। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর সমাধান করলেও বেশ কাজে দেবে।

গণিত
গনিতে ভাল করার জন্য গাইডের পাশাপাশি ৭ম-নবম শ্রেণির গনিত বই ও সিলেবাসের সাথে মিলিয়ে উচ্চতর গনিত অনুশীলন করতে পারেন। দশম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কলেজ পর্যায়ে উত্তীর্ণ সোহরাব হাসান জানান, অনেকেই গণিতে খারাপ করে। গণিতে ভালো করতে হলে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো বারবার চর্চা করতে হবে। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত—এসব অধ্যায় ভালো করে চর্চা করলে প্রশ্ন পাওয়া যাবে। আর বীজগণিতের জন্য করতে হবে উৎপাদক, বর্গ ও ঘনসংবলিত সূত্রগুলো ও প্রয়োগ, গসাগু, সূচক, লগারিদম—এসব অধ্যায় থেকে প্রতিবছরই প্রশ্ন থাকে। জ্যামিতির জন্য রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত অধ্যায়গুলো আয়ত্তে রাখা দরকার। বিগত বছরগুলোর বিসিএস প্রশ্ন ও শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নগুলো বারবার চর্চা করলেও ভালো করা যাবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হয়। তাই প্রতিটি উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে।

ইংরেজি
যেকোন চাকরির পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রার্থী ইংরেজি নিয়ে শঙ্কায় থাকে। অথচ ইংরেজিতে ভাল করতে পারলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই সব শঙ্কা দূরে ঠেলে ইংরেজি পরীক্ষায় ভাল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। ফেরদৌসি সুমি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজির সহকারি শিক্ষক। ৩য় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তিনি। তাঁর মতে, ইংরেজি বিষয়ে ভালো করতে হলে বেশি করে পড়তে হবে গ্রামারের খুঁটিনাটি। এ অংশে ভালো করতে হলে গ্রামার অংশকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই গ্রামার অংশ থেকেই স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই প্রশ্ন আসে। Completing Sentences, Translation from Bengali to English, Change of parts of speech, Right forms of verb, Fill in the blanks with appropriate word, Transformation of sentences, Synonyms and Antonyms, Idioms and Phrases, Article এই অধ্যায়গুলো মনোযোগসহকারে পড়লে প্রশ্ন পাওয়া যাবে। এসব অধ্যায়ের উপাদানগুলো বারবার চর্চা করলে ভালো করা যাবে।

সাধারণ জ্ঞান
অষ্টম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করেছেন মো. শহিদুর রহমান। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এই বিষয়ে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে। এ অংশে ভালো করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত পত্রিকা পড়া, দেশি-বিদেশি সমসাময়িক খবরগুলো নিজের আয়ত্তে করে নেওয়া। বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং রোগব্যাধি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জলবায়ু, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিভিন্ন জেলার আয়তন, অর্থনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত থাকা দরকার। আর আন্তর্জাতিক অংশের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, সাম্প্রতিক ঘটনা—এসব থেকে দু-চারটি প্রশ্ন পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বাজারে সাধারণ জ্ঞানের বিভিন্ন প্রকাশনীর বইগুলো পড়লেও ভালো করা যাবে।

কালবিলম্ব না করে লিখিত পরীক্ষার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করুন। লিখিত পরীক্ষায় ভাল নম্বর অর্জন করতে পারলে চূড়ান্ত রেজাল্টে আপনার সাফল্যের হার অনেকাংশে বেড়ে যাবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ