কমপক্ষে ১০ঘন্টা পড়া উচিত, রীতিমত যুদ্ধ করতে হবে

ইসরাত জলিল মীম

সঠিক পদ্ধতিতে প্রস্তুতি না নেওয়ায় কিংবা কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই সফলতা লাভ করতে ব্যর্থ হয় এ ভর্তিযুদ্ধে। তাই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিষয়ে লিখেছেন ২০১৮-২০১৯ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করা ইসরাত জলিল মীম—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একটি স্বাপ্নিক ক্যাম্পাস। দেশের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখে না এমন শিক্ষার্থী খুব কমই আছে। কিন্তু এ স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। রীতিমত যুদ্ধ করেই অর্জন করতে হয় প্রতিটা আসন। আমার এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ ছিল। প্রথমেই আমি প্রতিটি বিষয় সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিয়েছিলাম যে, কোন বিষয় কীভাবে পড়ব এবং কতটুকু পড়ব। প্রত্যেক দিনের জন্য একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে নিয়েছিলাম, যে আজকে বা এই সপ্তাহে এতটুকু পড়ব এবং যেভাবেই হোক সেই লক্ষ্যমাত্রা শেষ করতাম। প্রথম দিন থেকে পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি।

দৈনিক প্রায় ৮-১০ ঘন্টা পড়ার চেষ্টা করতাম। এর কম পড়া উচিত না। তবে সত্যিকার অর্থে পড়াশোনা সময় বা ঘন্টার উপর না বরং ধারণক্ষমতার উপর নির্ভর করে। কেউ কেউ অল্প সময়ে অধিক পড়ার ক্ষমতা রাখে আবার কেউ কেউ প্রচুর সময় নিয়ে একটা টপিকই শেষ করতে পারে না! তাই কতটুকু সময় পড়াশোনা করা হয়েছে তা দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়।

বাংলা প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় পত্র উভয় বিষয় থেকেই প্রশ্ন হয়ে থাকে; তাই দুটো বিষয়েই ভারসাম্য বজায় রেখে পড়তে হবে। আমার প্রথম পত্র আয়ত্তে ছিল তাই দ্বিতীয় পত্রতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম এবং চেষ্টা করেছি বইয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো যেন ভালোভাবে আয়ত্ত করা যায়।

ইংরেজি বিষয়টিতেও একই সূত্র প্রয়োগ করেছি অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ভারসাম্য রেখে পড়াশোনা করেছি। ইংরেজিতে একটা সমস্যা হচ্ছে, ভোকাবুলারিতে ভালো দখল না থাকা। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বারবার আটকে যেতে হয়, তাই প্রতিদিন ভোকাবুলারি চর্চা করতে হবে। বারবার ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক; কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সাধারণ জ্ঞানের পরিধি যেমন বড় তেমনি এই বিষয়ে নম্বর উঠানোও সহজ। তাই আমি সাধারণ জ্ঞানে সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছি। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মাথায় রাখতে পারলে তা নম্বর উঠানোতে অনেক সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়তাম।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজে বাড়িতে পড়াশোনা করা। কোচিং, প্রাইভেট এই প্রতিষ্ঠানগুলো দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে কিন্তু পথ পথিককেই পাড়ি দিতে হয়। তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের উপর বিশ্বাস রাখা এবং চেষ্টা করা। আমি বিভিন্ন জটিল বিষয় মনে রাখার জন্য পড়ার পাশাপাশি খাতায় লিখার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলাম। যে বিষয়গুলো মনে রাখা বেশ কঠিন; সেগুলো ছন্দ এবং চার্টের মাধ্যমে আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি। আর যে বিষয়গুলো একদম মাথায় ঢুকে না, সে বিষয়গুলো বাদ দিয়ে অন্য কোন বিষয়ে সময় দেয়াটাই ভালো।

ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভালো হয় বাংলা প্রথম পত্রের জন্য পাঠ্যবই এবং দ্বিতীয় পত্রের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই। এর পাশাপাশি বাংলা জিজ্ঞাসা বইটা, আর ইংরেজির জন্য আমি পাঠ্যবই এবং গ্রামারের জন্য কম্প্যাক্ট বইটি হাতের কাছে রেখেছিলাম। সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব বইটি পড়তাম এবং নিয়মিত দৈনিক সংবাদপত্র পড়তাম।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিকালীন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজের লক্ষ্যের প্রতি অনড় থাকা এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সব ধরনের বাঁধাকে ‘না’ বলতে হবে। আর যে বিষয়গুলো পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে সে বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় যেহেতু ঘনিয়ে আসছে সেহেতু এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যেটা করা উচিত তা হচ্ছে, সিলেবাস এবং প্রশ্ন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা এবং সে অনুযায়ী পড়াশোনা করা। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত তিনটি ধাপে। প্রথমত, প্রশ্নব্যাংক সলভ করা এবং কোন কোন টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে নিজের জন্য একটা সিলেবাস তৈরি করে ফেলা। দ্বিতীয়ত, নির্ভরযোগ্য বই থেকে সে বিষয়গুলো পড়া শুরু করা এবং তৃতীয়ত, পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় হাতে রেখে যা পড়া হয়েছে সব প্রথম থেকে রিভিশন দেওয়া।

সবশেষে এটাই বলবো যে, ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে একটি যুদ্ধের মত যেখানে লড়াই নিজেকেই করতে হবে। শিক্ষক, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব যতই সাহায্য করুক না কেন, পাশে থাকুক না কেন যুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে নিজেকেই রণক্ষেত্রে নেমে যুদ্ধ করতে হয়। নিজের এবং নিজের লক্ষ্যের উপর বিশ্বাস রেখে প্রস্তুতি নিলে লক্ষ্য পূরণ হবেই।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ