মানবিকতা দেখালো চবি, সফল হলো রহমতের অনশন

সনদ হারিয়ে ভর্তির জন্য অনশন করেন রহমত উল্লাহ
সনদ হারিয়ে ভর্তির জন্য অনশন করেন রহমত উল্লাহ

রহমত উল্লাহ’র গল্পটা মনে আছে? না থাকলেও সমস্যা নেই। চলুন, আবার শোনা যাক। গত ১৮ নভেম্বর ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। ভর্তির উদ্দেশ্যে ১৬ তারিখ ঢাকা থেকে ট্রেনে রওয়ানা হন রহমত উল্লাহ। ট্রেনের মধ্যেই চুরি হয় রহমতের ব্যাগ; যাতে খোয়া যায় যাবতীয় কাগজপত্রও। বিপাকে পড়ে পরদিনই হাটহাজারী থানায় জিডি করেন রহমত। পরে জিডির কপি সাথে নিয়ে ভর্তি হতে আসেন ‘বি’ ইউনিটে ৯১৭তম স্থান অর্জনকারী রহমত। কিন্তু সনদপত্র সাথে না থাকায় বেঁকে বসেন কলা অনুষদের ডিন। কোনো ঘটনাই মানতে নারাজ ভর্তি সংশ্লিষ্টরা। এতে ভর্তি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার।

এদিকে ভর্তি হতে না পেরে ২২ নভেম্বর আমরণ অনশনের পথ বেছে নেন রহমত উল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে 'অশিক্ষিত মুর্খ চোর কেড়ে নিল সার্টিফিকেট, শিক্ষিতরা জীবন নিতে চায়’; ‘মাননীয় ডিন একটি পরিবারের স্বপ্নকে জীবন্ত কবর দেবেন না’; এ ধরনের বেশ কয়েকটি পোস্টার টাঙিয়ে অনশন করেন তিনি। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী এসে প্রক্টর অফিসে নিয়ে রহমত উল্লাহর অনশন ভাঙ্গান। এবং বোর্ডে আবেদন করে সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলেন।

অবশেষে আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন রহমত উল্লাহ। সোমবার  ভর্তির মাধ্যমে সফল হলো তার অনশনও।

রহমত উল্লাহ এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

 

ভর্তি হতে পেরে উচ্ছ্বসিত রহমত উল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কাগজপত্র না থাকায় অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরবর্তীতে প্রক্টর স্যার বোর্ডে আবেদন করে কাগজপত্র নিয়ে আসলে ভর্তির আশ্বাস দেন। রহমত জানান, আমি শুধু এইচএসসি'র মার্কশিট ছাড়া প্রায় সব কাগজপত্র ব্যবস্থা করতে পেরেছি। পরে শিক্ষকদের সুপারিশে তৃতীয় মেধা তালিকায় আমাকে ভর্তির সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকায় চবি সাংবাদিক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় জানায় রহমত।

জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকল বিষয় বিবেচনা করে ভর্তি কমিটি ওই শিক্ষার্থীকে সনদগুলো আনার সুযোগ দিয়েছে। নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দেয়ায় ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ