চলতি মাসেই ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি

চলতি মাসেই ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি
  © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সাত মাস আগে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দিতে পারলেও হল কমিটি দিতে পারেনি শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। বিষয়টি নিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এখন আদৌ কমিটি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে একই সঙ্গে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে, চলতি মাসের মধ্যেই কমিটি হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

হল কমিটির পদপ্রত্যাশী নেতারা এ ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, হল কমিটি দিলে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের প্রটোকল কমে যেতে পারে। সে ভয়ে তারা হল কমিটি দিতে গড়িমসি করছেন।

এদিকে দীর্ঘদিন হল কমিটি না দেওয়ার কারণে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। অনেকে হতাশার কারণে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার মনস্থির করেছেন।

সূত্র জানায়, নিদিষ্ট সময় অনেক আগে অতিবাহিত হওয়ার পরও হল কমিটি না হওয়ার কারণে অনেকে সামনের বিসিএস প্রিলিকেন্দ্রীক পড়াশোনা শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার হতাশায় নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহন ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে ছাত্রলীগের কর্মী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে, কর্মী সংকটের আশঙ্কা থাকলেও তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই নেতার। তবে তারা জানিয়েছে, ‘কর্মী সংকটের কোন আশঙ্কা নেই। যার রাজনীতি করার সে রাজনীতি করবে।’

সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই নেতা হস্তক্ষেপ করার কারণে হল কমিটি হচ্ছেনা। বির্তকিত কর্মকান্ডের জন্য পদ হারান ছাত্রলীগের গত কমিটির শীর্ষ দুই নেতা শোভন-রাব্বানী। এরপর সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব গ্রহন করেন জয়-লেখক।

জানা গেছে, জয়-লেখক দায়িত্ব পাওয়ার তাদের এলাকাভিত্তিক অনেক হল পদপ্রত্যাশী নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। একই হলে নতুন নেতার আবির্ভাব হওয়ার কারণে শোভন-রব্বানীর কাছের কর্মীরা জয়-লেখকের কাছে যেতে পারিনি। অন্যদিকে জয়-লেখক তাদের সমর্থন বা প্রটোকল বাড়াতে হল কমিটি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ নেতা-কর্মীদের।

সাংগঠনিক সূত্রে জানা যায়, গেল বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এতে সনজিত চন্দ্র দাস সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ৩০ মে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা পায়। আর জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। সে হিসেবে দুই মাস আগে শেষ হয়েছে বর্তমান কমিটির মেয়াদ।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। জেলা শাখাকে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহবায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে কমিটি না হওয়ায় হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখনও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে হল পরিচালনা করতে গিয়ে দো-টানায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী এক নেতা জানিয়েছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত হল কমিটি হয়নি। যে কারণে আমাদের মধ্যে অনেক হতাশা কাজ করছে। কবে নাগাদ কমিটি হবে তাও জানিনা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমরা এ মাসের মধ্যে কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের চার নেতার মধ্যে কোন জামেলা নাই। কর্মী সংকটের কোন আশঙ্কা নেই। যার রাজনীতি করার দরকার সে রাজনীতি করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা অতি শিগগিরই হল কমিটি দেব। এ মাসের মধ্যে হল কমিটি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’


মন্তব্য