এক সহ সভাপতির কপাল ফাটালেন আরেক সহ সভাপতি (ভিডিও)

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী দুই ছাত্রলীগ নেতার নিজেদের মধ্যকার মারামারিতে একজনের কপাল ফেটে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

মারমারি করা দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির ও শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ। এরা দুইজনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের অনুসারী। আহত বিদ্যুৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আদর্শগত দ্বন্দ্বের জন্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জহির ইট দিয়ে আঘাত করে বিদ্যুৎ এর চোখের বাম চোখের ওপরে কপাল ফাটিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ।

তিনি বলেন, ‘সপ্তাহ খানেক সময় ধরে ওদের সিন্ডিকেটের সাথে আমাদের মতানৈক্য ও বিরোধ চলে আসছিল। আজ মধুর ক্যান্টিনে এসব বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জহির আমার শার্টের কলার চেপে ধরে। তখন আমিও ওর জামার কলার চেপে ধরি। এক পর্যায়ে জহির ইট দিয়ে আঘাত করে আমার কপাল ফাটিয়ে দেয়। এসময় জহিরের এক ছোট ভাইয়ের হাতে বাঁশ ছিল বলে অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ।’

মারামারির পর উত্তেজনা

 

জহির জামাত-শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং জহিরের সিন্ডিকেট মিলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভাঙার ষড়যন্ত্র করছিল বলে অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ। আর এসব বিষয় নিয়েই মুলত জহিরের সঙ্গে গত কিছুদিন ধরে জামেলা চলছিল বলে জানান বিদ্যুৎ। এছাড়া অভিযুক্ত জহির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয় বলেও অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ।

অভিযুক্ত জহির কোথায় এখন কোথায় আছেন এ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জহির ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের বাসায় আছেন বলে জানান কিছু ছাত্রলীগ নেতা।

এদিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে মারামারি সংঘটিত হওয়ার সময় দৈনিক ইনকিলাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য নুর হোসেন ইমন ঘটনার ভিডিও তার মুঠোফোনে ধারণ করেন। এটি দেখে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন জোরপূর্বক ওই সাংবাদিককে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরে ভিডিও ডিলেট করিয়ে দিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে শোভনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

আরো পড়ুন: রাসুল (স:) নিয়ে অসংলগ্ন উদ্ধৃতির ব্যাখ্যা দিলেন সৌমিত্র শেখর

পড়ুন: ছাত্রলীগ ইস্যুতে অনঢ় প্রধানমন্ত্রী


মন্তব্য