বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত

বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে শাখা ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে পরীক্ষায় নকল করতে না দেওয়ায় গত ১২ মে কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে কলেজের গেটে মারধরের শিকার হন শিক্ষক মাসুদুর রহমান। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই হামলার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রভাষক মাসুদুর রহমান এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে কলেজের শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ওই ঘটনায় সাফিন, সজল নামে দুইজন এজাহার নামীয় আসামীকে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ( এডিসি) নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাবনা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) নিজে এই মামলার তদারকি করছেন। আরো দু’জন অজ্ঞাতনামাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল কুদ্দুছ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি  বলেন, ‘আমি প্রফেসর আবব্দুল কুদ্দুস(৫৮) আইডি নম্বর-৪৯১০, অধ্যক্ষ, শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজ, পাবনা সঙ্গীয় সহকর্মী ১। মো খায়রুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা, ২। মোঃ ফরিদ আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, দর্শন, ৩। শরিফুল ইসলাম, প্রধান সহকারী (ভারপ্রাপ্ত), ৪। মোঃ জহুরুল ইসলাম, ডে-গার্ড, সকালে শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজ, পাবনা থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে এজাগার দায়ের করছি যে, গত ৬ মে পাবনা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০১৯ চলাকালে ১০৬ নম্বর কক্ষে বাংলা বিভোগের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান ডিউটি করা কালে কতিপয় পরীক্ষার্থীকে অসুপায় অবলম্বন করতে বাধা প্রদান করেন।

উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১২মে বেলা ১টা ২৫মিনিটে পাবনা থানাধীন শালগাড়ীয় মহল্লায় শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজের প্রধান গেইটে মোঃ মাসুদুর রহমান পৌছিলে আসামী ১। সজল (২০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- অজ্ঞাত, ২। শাফিন (২০) পিতা- অজ্ঞাত, সাং- অজ্ঞাত থানা ও জেলা পাবনাসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন বহিরাগত আসামী পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর হাতে হাত দেওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে উক্ত শিক্ষককে সরকারী কাজে বাধা প্রদান করতে হত্যার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে মারপিট শুরু করে।’

আরো বলা হয়েছে, আসামী সজল হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাসুদুর রহমানকে গলা চেপে ধরে এবং লাথি ও কিল ঘুষি মারে। আসমী শাফিন মাসুদুর রহমান সাহেবের জামার কলার ধরে টানে। অন্যান্য আসামীগণ মাসুদুর রহমান সাহেবকে কিল ঘুষি মারিতে থাকিলে কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকবৃন্দ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে মাসুদুর রহমান কলেজে আসলে কেটে দুই টুকরা করে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে চলে যায়। উল্লেখিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ