অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে কোচিং পরিচালনা করেন বিদ্যালয় প্রধান

  © ফেসবুক

এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে সকাল ও বিকেল-দুই দফায় কোচিং করতে হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এ জন্য তাদের দুই দফায় ফি-ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। সকালের কোচিংয়ে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের অংশগ্রহণ থাকলেও বিকেলেরটা ছিল একেবারেই প্রধান শিক্ষকের ‘হাতে’। তিনি কয়েকজন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়ে এই কোচিং পরিচালনা করেন।

সকালের কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের দুই মাসে দিতে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর শুরুতে কোনো ফি ছাড়াই বিকেলের কোচিং করানো হবে বললেও প্রধান শিক্ষক পরবর্তী সময় দাবি করে বসেন দেড় হাজার টাকা। অনেকেই ইতিমধ্যে বিকেলের কোচিংয়ের টাকা পরিশোধ করেছেন। যারা ফি দেয়নি তাদের প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এই বিদ্যালয় থেকে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ১১৭ জন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ তাদের কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে দুই দফায় কোচিংয়ের জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। যা অভিভাবকদের জন্য একপ্রকার অসম্ভব।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো নভেম্বরের শুরু থেকে কোচিং শুরু হয়। সকাল সাড়ে দশটা থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত এই কোচিং চলে। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় হঠাৎ রাত সাড়ে আটটায় অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান প্রধান শিক্ষক। এ সময় অঙ্গীকারনামায় তাদের কাছ থেকে সই নেন প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে বিনা বেতনে স্পেশাল কোচিং করা হবে বলে জানান। কিন্তু কোচিং শুরু করার কয়েক দিনের মাথায় আবারও অভিভাবকদের ডেকে বলে দেন বিশেষ কোচিংয়ের জন্য দেড় হাজার টাকা করে দিতে হবে, না হলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি দুটি কোচিংই শেষ হয়েছে। সবাই সকালের কোচিংয়ের ফি পরিশোধ করেছে। তবে অনেকে এখনো বিকেলের ফি পরিশোধ করেনি। তাদের এখন প্রতিনিয়ত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে কোচিং এর প্রতি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে সেখানে দুই দফায় কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। তবে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিকেলের পরে কোচিংযের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আজাদ হোছাইন বলেন, ‘এটা উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এ রকম কোচিং আর হবে না। ইতিমধ্যে অনেকেই বিকেলের কোচিংয়ের জন্য টাকা দিয়েছেন। সবাই চাইলে সেই অর্থ ফেরতও দিতে পারি।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শফিক আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি দিনভর কোচিং নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাহলে তারা রাতে গিয়ে বাসায় পড়ার পরিস্থিতিতে থাকবে না। বিষয়টি কমিটির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ