০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭

নিয়মের তোয়াক্কা না করে ফের ভিকারুননিসায় ভর্তি!

নিয়মের তোয়াক্কা না করে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনা ঘটেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষ ক্লাস ১৪ নভেম্বর ছিল। ঐদিনই ষষ্ঠ শ্রেণিতে একই শিক্ষাবর্ষে এক ছাত্রী ভর্তি হয়েই বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

তবে, এভাবে ভর্তির বিষয়টি জানেন না মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, বছরের শেষ সময়ে এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি অস্বাভাবিক। এভাবে ভর্তি না করানোর পক্ষে তার মত।

তবে নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি ঐ ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে বলে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অধ্যক্ষ ফওজিয়া তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোপাল চন্দ্র দাস সম্প্রতি বদলি হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন। তার মেয়েকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই ভর্তি করা হয়েছে।

তবে এভাবে বদলি হয়েই ভর্তি হবার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির প্রাক্তন সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ কোটা রয়েছে। এ কোটা ভর্তির সময়েই শেষ হয়। কিন্তু বছরের শেষ সময়ে এভাবে ভর্তি করা অনিয়ম। যদি আসন শূন্য থাকত তবে ভর্তির ক্ষেত্রে একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু ভিকারুননিসায় কোনো আসন শূন্য নেই। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, এ নিয়ে মন্ত্রণালয় তদন্তও করে প্রমাণ পেয়েছে। তাহলে নতুন করে আবার ভর্তি কেন? তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের এসব অনিয়ম করায় অন্য সকলেই অনিয়ম করার সুযোগ পায়।

ভিকারুননিসায় ভর্তিসহ নানা অনিয়ম রুখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতিও হয় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এক কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারি কর্মকর্তা থাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক আরিফুল হক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে বছরের শেষে বার্ষিক পরীক্ষার ঠিক আগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা অনিয়ম, অনৈতিকও। ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষ এভাবে ভর্তি করে ভর্তি দুর্নীতিকে উসকে দিয়েছেন। যেখানে ভিকারুননিসায় অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি নিয়ে সাবেক এক অধ্যক্ষ, গভর্নিং বডিসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তির প্রমাণও মিলেছে। সেখানে বছরের শেষ সময় আবারও ভর্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, বছরের শেষ সময়ে এসে ভর্তি এমন অভিযোগ জমা পড়েছে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকার কথা। কোনো স্কুলে সেটা না থাকলে সেটাও অনিয়ম। ভিকারুননিসায় ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আছে কিনা সেটা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষই বলতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানরা সরকারি স্কুল বাদ দিয়ে ভিকারুননিসাতেই ভর্তি হতে হবে এমন চিন্তার সঙ্গে একমত নন এ চেয়ারম্যান।