জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল

প্রকৃতির সান্নিধ্যে পড়াশোনা

জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল  © সংগৃহীত

প্রকৃতিকন্যা সিলেটের পর্যটন উপজেলা জৈন্তাপুর। সিলেট-তামবিল সড়ক ধরে জাফলংয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে পাহাড়ের পাদদেশে দেখা মিলবে অপরূপ এক শিক্ষাঙ্গনের। যেখানে ১৫০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল। ক্যাডেট কলেজের আদলে নির্মিত সম্পূর্ণ আবাসিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরিনির্ভর জ্ঞান অর্জনেও পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে পড়াশোনা-দেশে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুবই বিরল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বেশ কয়েকটি বোর্ডিং স্কুল আছে, তবে দেশে বোর্ডিং স্কুল চালুর ঘটনা এটাই প্রথম বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের। এই স্কুলে আছে ৫৫টি শ্রেণিকক্ষ, চারটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ছয়টি খেলার মাঠ, মাল্টিপারপাস রুম, তিনটি হোস্টেল ব্লক, ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ নানা স্থাপনা।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গুণগত শিক্ষাদানের পাশাপাশি ভবিৎষতে নেতৃত্বদানের গুণাবলি সম্পন্ন, দক্ষ ও দেশপ্রেমী এবং আলোকিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই স্কুলের মূল লক্ষ্য। এছাড়া অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হৃদয়ে লালন করে সংগীত ও শরীরচর্চাসহ বিভিন্ন সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয় এই স্কুলটিতে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্টানের অভাবে অনেকেই বিদেশে গিয়ে লেখাপড়া করে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুনতে হয় লাখ লাখ টাকা। ফলে অনেকের পক্ষে এতো টাকা ব্যায় করে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য থাকে না। বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের ১৪ জন ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী-শিক্ষাবিদ মিলে এই আবাসিক স্কুলটি গড়ে তুলেছে। স্কুলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমেদ মজুমদার। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ষষ্ট থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান করা হয়।

অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি

জানা যায়, অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি শিক্ষক দ্বারা এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এ স্কুলে মাসে সর্বসাকুল্যে ২০ হাজার টাকা দিতে হয় ছাত্রভেদে। বছরে এককালীন সেশন ফি দিতে হয় ৬০ হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য এ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব আবাসনব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মানসম্পন্ন ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হয়। যোগাযোগশৈলী ও নেতৃত্ব বিকাশে এখানে শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। বর্তমানে ১১৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যদিও এখানে প্রায় ৯৫০ জন শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। আর শিক্ষক রয়েছেন ২১ জন। এদের মধ্যে অধ্যক্ষসহ ৩ জন ভারতীয় শিক্ষক রয়েছেন। রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা। আইসিটি ল্যাব ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার নিয়মিত ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

ইনডোর গেমস

স্কুলের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের প্রধান প্রবেশ ফটক পেরিয়ে একটু এগোলেই পাহাড়ের চূড়ায় ভবন চোখে পড়ে। এক একটি পাহাড়ের চূড়াায় একেকটি ভবন, যেনো রাজমুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে। কোথাও একাডেমিক ভবন আবার কোথাও ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ভবন। প্রাকৃতিক টিলাগুলি অবিকল রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এ স্কুলটির একাডেমিক ভবন, হোস্টেল ও ডরমিটারি ভবন। অন্যদিকে, স্কুল ক্যাম্পাসে টিলার ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে চায়ের বাগান। প্রকৃতির এমন বিরল রং-রূপ আর কোথাও দেখা যায় না।

সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার

জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রিজ কিশোর ভারদ্বাজ বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কুলে পড়তে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশমুখী না হয়, এজন্য আন্তর্জাতিক মানের এ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যাডেট কলেজের আদলে নির্মিত এটি একটি সম্পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে ছাত্ররা সার্বক্ষণিক শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকবে। ছাত্রদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও লিডারশিপ তৈরি করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলে ডিন (একাডেমিক এন্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার) মো: মুবিনুল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পুরোই একটি আবাসিক স্কুল। এখানে পরীক্ষা কিংবা জিপিএ-৫ কে প্রাধান্য দেয়া হয় না, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ করে দেয়াটাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলা হবে, যাতে করে তারা বিশ্বের যে কোন জায়গায় যে কোন কাজে নেতৃত্ব দিতে পারে।

হোস্টেল

স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহীদুল ইসলাম মাহবুব বলেন, প্রথমত প্রকৃতির সান্নিধ্যে পড়তে পারছি। এছাড়া আগে যখন একটি বিষয় বুঝতাম না তখন না পরের দিনের কোচিংয়ের জন্য ফেলে রাখতে হতো। কিন্তু এখন স্কুল, স্পেশাল কোচিংয়ের বাইরেও সব সময়ের জন্য শিক্ষক পাচ্ছি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলাও করতে পারছি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ