পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই নির্বাচিত ভিপি-জিএস

বর্ষা রহমান ও জোনাকি খাতুন
বর্ষা রহমান ও জোনাকি খাতুন

কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন অথবা শিক্ষার্থীদের ভোটে অথবা কেন্দ্র দখল করে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। অন্য পদের ক্ষেত্রেও মেধা বিবেচ্য বিষয়। টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের ছাত্রী সংসদে রীতিমতো পড়াশোনা করে পরীক্ষায় ভালো ফল করেই এ ছাত্রী সংসদের সদস্য হতে হয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষা রহমান এবং জিএস নির্বাচিত হয়েছেন জোনাকি খাতুন। সম্প্রতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অরুণ কুমার সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে ভিপি-জিএস হিসেবে ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্ষা রহমান সমাজকর্ম বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে জিপিএ ৩ দশমিক ৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কলেজে ১১টি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। বর্ষা ১১টি বিষয়ে ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হয়েছেন। অন্যদিকে, জোনাকি ডিগ্রি (পাস) কোর্স পরীক্ষায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হয়ে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অধ্যক্ষ অরুণ কুমার সাহা জানান, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন চারবারের সাংসদ প্রয়াত শওকত মোমেন শাহজাহান। শুরু থেকেই কলেজে মেধাভিত্তিক ছাত্রী সংসদ নির্বাচন হয়ে আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মান প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় কলেজের মধ্যে যে শিক্ষার্থী বেশি পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হন, তিনি ভিপি আর ডিগ্রি (পাস) কোর্সের প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠা সেরা শিক্ষার্থী জিএস নির্বাচিত হন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, এ ব্যতিক্রমী সংসদে মোট ছয়টি পদ রয়েছে। মেধার ভিত্তিতেই এ ছয়টি পদ পূরণ করা হয়। কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাকি চারটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (দৌড়, লাফ, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, সাইকেল রেস ইত্যাদি) সেরা পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থী ওই সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাহিত্য প্রতিযোগিতায় (রচনা লেখা, কবিতা আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান, বিতর্ক, উপস্থাপনা ইত্যাদি) সেরা পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থী সাহিত্য সম্পাদক, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় (গান, নাচ অভিনয় ইত্যাদি) সেরা শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং আন্তক্রীড়া (ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, দাবা, ক্যারম ইত্যাদি) সেরা পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থী মিলনায়তন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শওকত মোমেনের ভাই। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার ভাই ছিলেন মেধাভিত্তিক ছাত্র সংসদের স্বপ্নদ্রষ্টা। এ সংসদের সদস্যদের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁদের মূল কাজ পড়াশোনা।’

কলেজের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা ইত্যাদিই হচ্ছে সদস্যদের কাজ। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, মাদক ইত্যাদি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সদস্যরা কাজ করেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ইকবাল গফুর।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ