এখনও চাপা কান্নায় ভারি মিরসরাই

আজ (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস। কালের স্রোতে পেরিয়ে গেছে মিরসরাই ট্রাজেডির আট বছর। ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ট্রাক রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে ৪৪ জন ছাত্র নিহত হয়। ছাত্ররা খেলা দেখে ওই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল।

দূর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়েন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। একে একে সারিবদ্ধ লাশ দেখে ওইদিন শোকাহত স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সহপাঠিদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আবু তোরাব হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। সেদিনকার সেই স্মৃতি স্মরণ করে প্রতিবছর নিহতদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

নিহতদের স্মরণে মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাবসহ আশপাশের এলাকায় ছেয়ে গেছে কালো পতাকা আর শোক ব্যানার। স্কুল মাঠ, বাজার, ব্যস্ত জনপদ, দোকান, পাড়া, মহল্লা সবখানেই উড়ছে কালো পতাকা আর কালো ব্যানার। আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে নির্মিত ‘আবেগ’র আশপাশে বিদ্যালয়ের মাঠেও কালো ব্যানারে ছেয়ে গেছে। মাঠের আশপাশের দোকানগুলোতেও উড়ছে কালো পতাকা।

দুর্ঘটনাস্থল ‘অন্তিম’ (স্মৃতিস্তম্ভ) আবুতোরাবের পার্শ্ববর্তী সৈদালি গ্রামে যে ডোবায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়েছিল সেখানেই ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। মিরসরাইয়ের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন টানিয়েছেন শোকগাঁথা।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নয়, আবুতোরাবের পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে এখনও চলছে শোকের মাতম। বড়তাকিয়া থেকে আবু তোরাব আসার পথে সৈদালি গ্রামে দুর্ঘটনাস্থলে এখনও ভীড় করছেন শতশত জনতা। তাদের মধ্যে নিহতদের স্বজনও রয়েছে।

ঘটনার ৮ বছর অতিক্রম হলেও সহপাঠীদের মলিন, ভারাক্রান্ত মুখ আর চাপা কান্নায় এখনও ভারি আবুতোরাবের অপেক্ষাকৃত কোলাহলমুখর এ এলাকা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ