প্রাথমিক সমাপনী ফল

এগিয়ে মঙ্গাপীড়িত উত্তরবঙ্গ, পিছিয়ে সিলেট

ফাইল ছবি

একসময় ‘মঙ্গা’ শব্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার মানুষের। ফসল নেই, কাজ নেই, নেই খাবার-দাবার। চারদিকে যেন শুধুই হাহাকার। সেই উত্তরবঙ্গই আজ প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষার ফলে শীর্ষ অবস্থান করছে। পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে এই অঞ্চলের জয়পুরহাট জেলা। জেলাটিতে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ হস্তান্তর করেন তিনি।

ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাসের হারের দিক থেকে ৮ বিভাগের মধ্যে এবার প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা। এই বিভাগে পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে ৬৪ জেলার মধ্যে এবার জয়পুরহাট জেলা শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে গত বছরের মতো এবারও সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বিভাগে, এই বিভাগে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সুনামগঞ্জ জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৯১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

আট বিভাগের মধ্যে পাসের হার খুলনায় ৯৮ দশমিক ০৫, চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ১১, বরিশালে ৯৭ দশমিক ৭২, রংপুরে ৯৮ দশমিক ২০ ও ময়মনসিংহে ৯৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ইবতেদায়িতেও উত্তরবঙ্গ

ইবতেদায়িতেও ৮ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে, সেখানে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অপরদিকে সিলেট বিভাগে পাসের হার সর্বনিম্ন; পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর ও নওগাঁ জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ। এই তিন জেলায় শতভাগ পাস করেছে।

এবার ১৭৩টি উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম, সেখানে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫১ শতাংশ। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে ইবতেদায়িতে পাসের হার খুলনায় ৯৮ দশমিক ৬৭, রংপুরে ৯৮ দশমিক ৬১, বরিশালে ৯৮ দশমিক ২৫, ঢাকায় ৯৭ দশমিক ৭৮, চট্টগ্রামে ৯৭ দশমিক ১৭ ও ময়মনসিংহে ৯৬ দশমিক ০৯ শতাংশ।

প্রাথমিকে শতভাগ পাস ১৬ উপজেলায়

এ বছর প্রথমিক সমাপনীতে দেশের ৫১০টি উপজেলার মধ্যে ১৬টি উপজেলার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান, নওগাঁর বদলগাছি, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও কালাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও নবীনগর, রাঙাম‍াটির জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি, পিরোজপুর সদর ও জিয়ানগর, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, মাগুরার শালিখা, কুষ্টিয়ার খোকশা, পুটয়াখালীর দশমিনা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকেও শতভাগ পাস করেছে।
 
এর মধ্যে সিরাজদিখানের ২ হাজার ২৮৫ ছাত্র ও ২ হাজার ৫৪৫ জন ছাত্রী, বদলগাছির ১ হাজার ৫৪৪ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৬৭০ জন ছাত্রী, মুন্সিগঞ্জ সদরের ৩ হাজার ৮১ জন ছাত্র ও ৩ হাজার ৬১৩ জন ছাত্রীর সবাই পাস করেছে। পিরোজপুরের ১ হাজার ২৩০ জন ছাত্র ১ হাজার ৫০২ জন ছাত্রী, আক্কেলপুরের ১ হাজার ৭৩ জন ছাত্র ও ১ হাজার ১৬২ জন ছাত্রীর সবাই পাস করেছে। শালিখা উপজেলার ১ হাজার ১৭০ জন ছাত্র ও ১ হাজার ২৯৭ জন ছাত্রী, কালাইয়ের ৯৮৮ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৯১ জন ছাত্রীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। খোকশা উপজেলার ১ হাজার ২৭৪ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৪৩১ জন ছাত্রী, দশমিনার ৩২৬ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৬৩৪ জন ছাত্রী, আশুগঞ্জের ১ হাজার ৬৫৮ জন ছাত্র ও ২ হাজার ২৮০ জন ছাত্রী, জিয়ানগরের ৫০৯ জন ছাত্র ও ৬৬৪ জন ছাত্রীর সবাই পাস করেছে।
 
নবীনগরে ৫ হাজার ২১৭ জন ছাত্র ও ৬ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী, নন্দীগ্রামের ১ হাজার ২৪৯ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৪৪৭ জন ছাত্রী, বিলাইছড়ির ৩৬১ জন ছাত্র ও ২৯৬ জন ছাত্রী, জুরাছড়ির ২৬৬ জন ছাত্র ও ২১৮ জন ছাত্রী এবং মানিকছড়ির ৮৯৪ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৭ জন ছাত্রের সবাই পাস করেছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ