করোনার কারণে জবি ছাত্র এখন দিনমজুর

  © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র বদিউজ্জামান মিলন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজে চলতেন এবং পরিবারকেও কিছু সহায়তা করতেন। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অন্যদের মতো ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে হয় মিলনকে। ফলে আয়ের একমাত্র উৎস টিউশনিও বন্ধ হয়ে যায় তার।

বাড়িতে ফিরেই মিলন সংসারের খরচ জোগাতে নেমে পড়েন দিনমজুরির কাজে। কখনো নির্মাণ শ্রমিক, কখনো লোড-আনলোড শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের খাবার জোগাড় করছেন তিনি। প্রতিদিন ৪০০ টাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। 

জানা যায়, ওই ছাত্রের বাড়ি পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের সীতাগ্রাম এলাকায়। তাঁর বাবা আব্দুল জলিল একজন নির্মাণ শ্রমিক। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় মিলন। বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। এক ভাই তাঁর সঙ্গে কাজ করলেও ছোট ভাই স্থানীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করছেন।

মিলন বলেন, দরিদ্র পরিবারে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে আমাকে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ইচ্ছাশক্তির বলেই এখনো লেখাপড়া ধরে রেখেছি। ঢাকায় নারিন্দা এলাকার একটি মেসে ভাড়া থাকতাম। 

তিনি আরও বলেন, বাড়ি চলে এলেও প্রতি মাসে মেসভাড়া পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আমার বাবা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তেমন কোনো কাজ নেই। তাই সংসারের খরচ জোগাড় করতে আমাদের দুই ভাইকে শ্রম দিতে হচ্ছে।

মিলন জানান, গত ১৩ জুলাই থেকে তাঁর বিভাগে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু একটি ক্লাস করতে পারেননি তিনি। মজুরি খেটেই দিন কাটছে তাঁর। এছাড়া অনলাইনে ক্লাস করার কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেই তাঁর কাছে। মজুরি করে প্রতিদিন যে ৩০০-৪০০ টাকা উপার্জন করেন তা পরিবারের খরচ জোগাতেই শেষ হয়ে যায়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, আমরা যাচাই করে দেখব যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র সহযোগিতা পাওয়ার মতো কিনা। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। যদি সে সহায়তা পাওয়ার মতো হয়, তবে আমরা তাকে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য স্মার্টফোনের ব্যবস্থা করে দেব।


মন্তব্য