গোপনে নথি সরানোর অভিযোগে ইবি কর্মকর্তাকে শোকজ

  © টিডিসি ফটো

ইসলামী বিশ্বাবদ্যালয়ের (ইবি) প্রকৌশল অফিসের শাখা কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গোপনে ফাইল সংগ্রহ করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শনিবার (২১ মার্চ) বেলা এগারটার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জমান টুটুল দপ্তরের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

এদিকে এ ঘটনায় আনিছুর রহমানকে প্রকৌশল অফিস থেকে বদলি করে শেখ রাসেল হলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বদলি এবং শোকজ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শোকজের নোটিশের জবাব চাওয়া হয়েছে। শোকজের জবাবের ভিত্তিতে তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লিখিত অভিযোগ আলিমুজ্জামান টুটুল জানান, শুক্রবার (২০ মার্চ) আনুমাকি সকাল ১০ টায় আমার অফিসের কর্মচারী মিন্টু শেখ অফিসের সামনে এস দেখে যে, অফিসের দোতলার কলাপসিক্যাল গেটটি বন্ধ কিন্তু তালা নাই। তখন সে ভয় পেয়ে উপর উঠে দেখে গেট আটকানো কিন্তু তালা ভেতরের দিকে আছে।

তখন সে গেটটি খুলে ভিতরে ঢুকে দেখেনে যে, আনিছুর রহমান ভিতরে টেবিলে বসে একটি ফাইল উল্টা পাল্টা করছেন। তাকে দেখে আনিছ ভিত হয়ে উঠে। এসময় মিন্টু দেখতে পায় আনিছের রুমের দিকের প্রধান প্রকৌশলীর রুমের স্লাইডিং দরজাটি খোলা (অথচ এটা লক করা ছিল)।

লিখিত অভিযোগে টুটুল আরো জানান, ‘আনিছুর কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংগ্রহ করে সেটার তথ্য বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করে থাকেন। এর আগেও সে এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার হাতেনাতে ধরা পড়েছে। আমি অফিসে খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার মোটরসাইকেলের চাবি আর ব্যাংকের চেক আনতে আমার অফিসে গিয়েছিলাম। চাবি এবং চেক নিয়ে আমি সেখান থেকে চলে এসেছিলাম । আমি স্যারের কক্ষে ঢুকিইনি। কর্মচারী মিন্টু আর মোর্শেদ স্যারের রুমে ঢুকেছিলাম ফ্রিজ থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী বের করতে।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন হুমকির কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ইবি থেকে রিজাইন নেয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে গত ১৮ মার্চ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইবি থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ