র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ

বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে বহিষ্কৃত ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে নিরপরাধীদের বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের তদন্ত ‘নিখুঁত’ বলে দাবি করেছেন।

আজ রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা বলছেন, র‍্যাগিংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে যাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তারা প্রকৃত অপরাধী নয়। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে যাদেরকে ভুলভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাদের ক্লাস পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার দাবি আন্দোলনকারীদের।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরী সিন্ডিকেট সভায় কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিএসই) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরানকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ২য় বর্ষের দুই শিক্ষার্থী জাকির হোসেনকে ৩ বছর ও তানভিরুল ইসলামকে দুই বছর এবং ইইই বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসানকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অন্যদিকে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লিয়োনাকে র‍্যাগ দেওয়ার অভিযোগে শায়রা তাসনিম আনিকা ও তোয়াবা নুসরাত মীমকে ১ বছর করে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, পূর্বে কোন নোটিশ বা শিক্ষার্থীদের অবগত না করে হঠাৎ এতো বড় শাস্তি দেয়া অনুচিত। আর আজ যারা আন্দোলনে নেমেছি আমরাও র‍্যাগিংয়ের বিরোধী। আমাদের দাবি ইমরানের র‍্যাগিংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে যাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তারা প্রকৃত অপরাধী নয়। আমরা চাই যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের ক্লাস পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ র‍্যাগিংয়ের মত অপরাধের দুঃসাহস না করে সে বিষয়ে সতর্কতা করা হোক। এছাড়া আমরা প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাই।

প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, এই র‌্যাগিংয়ের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে অন্যায়ভাবে এত বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ র‌্যাগিংয়ের শিকার আল ইমরান আমার বিভাগের শিক্ষার্থী, তার সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল। আমি অসুস্থ থাকার কারণে গত ২৯ ডিসেম্বর সকল জুনিয়রদের বলি, আমার ৫ পেজের একটা অ্যাসাইনমেন্ট কেউ লিখতে পারবে কিনা, তখন আল ইমরান স্ব-ইচ্ছায় লেখার সম্মতি জানিয়েছিল এবং এক ঘণ্টা পর আমায় ফোন দিয়ে জানিয়েছিল ভাই লেখা শেষ।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবসহ ৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে আগামী শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সুজন আলী জানান, আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্তে কোনো গ্যাপ নেই। ইমরান অসুস্থ হওয়ার আগের একটা রেকর্ড পেয়েছি। সেই সূত্র ধরে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছে। আমরা সেটি গ্রহণ করেছি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ