বিএম কলেজের তিন হল জুড়ে মাদকের আখড়া

  © সংগৃহীত

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের তিনটি হলে মাদকের ছড়াছড়িতে বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বিএম কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হল, জীবনানন্দ দাশ হল ও অশ্বিনী কুমার হলে কয়েকজন কথিত ছাত্রনেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। মাদকসেবীদের আড্ডাও বেশি এ তিন হলে। এদের কিছু বললেই মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এ সমস্যা তীব্র হয়েছে। এছাড়া হলগুলোর কয়েকটি কক্ষে দেশীয় ধারালো অস্ত্র মজুদ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের এক ছাত্র বলেন, ‘শুনেছি ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা এ কলেজে খুবই জমজমাট। কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এ সমস্যা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এসে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজে মাদক ব্যবসা করে থাকে। হয়তো পুলিশও বিষয়টি জানে’। এছাড়া এ ছাত্রাবাসের নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষে দেশীয় ধারালো অস্ত্র রয়েছে শুনেছি। তাছাড়া পাইপ ও রড রয়েছে এখানে। জীবনানন্দ দাশ হল ও অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসেও কয়েকটি কক্ষে দেশীয় অস্ত্র রয়েছে। কোনো ঝামেলা বাধলেই শক্তি প্রদর্শনে এ ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, মাদক সমস্যা তো রয়েছেই, পাশাপাশি রয়েছে দেশীয় ধারালো অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও। ইদানীং ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও মারামারির পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাছাড়া ‘তিনটি আবাসিক হলে মাদক সমস্যা রয়েছে সেটা ঠিক। তবে আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে। কেননা আমরা নিয়মিত হলগুলোতে যাচ্ছি। তদারকি করছি। আর বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে আমরা কাজ করছি। এখন চাইলেই কলেজে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না’।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কলেজ প্রশাসন নানা সতর্কবাণী, নোটিশ ও কয়েকটি কক্ষ সিলগালা করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অদৃশ্য কারণে প্রশাসন কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ