মীর মোশাররফ হোসেন হলের প্রথম পুনর্মিলনী

১৪ ফেব্রুয়ারি তথা ১লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। একই দিনে দুটি দিবস। উদযাপনের নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে বাংলাদেশীদের। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা দিনটিকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করেছে।
অনিন্দ্যসুন্দর এই হলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ‘এসো প্রাণে প্রাণ মেলাই’ সুরকে ধারন করে ‘প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব-২০২০’ পালন করেছেন।

শুক্রবার সকাল দশটায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম হল প্রাঙ্গণে এ উৎসব উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাকালের ২নং ছাত্রহল হিসেবে মীর মশাররফ হোসেন হল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও গৌরবের সাক্ষী। এ হলের ছাত্ররা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এ হলের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছেন। পুনর্মিলনীর মাধ্যমে নতুন করে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জানা ও বুঝার দ্বার উন্মোচিত হয়। সেই সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বর্তমান ও প্রাক্তনদের রোমাঞ্চিত স্মৃতি-বিস্মৃতি গাঁথা সামনে চলে আসে।’

উৎসবের আহবায়ক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হলের প্রথম প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, প্রাক্তন প্রভোস্ট এবং সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমামউদ্দিন, প্রাক্তন প্রভোস্ট এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন খানসহ প্রমুখ দেশবরণ্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উৎসবের সদস্য সচিব ও সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক জোনের নির্বাহী পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ওবায়দুর রহমান।
পুনর্মিলনী উৎসবে হলের প্রায় তিন হাজার বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী পর্বের হল প্রাঙ্গন থেকে একটি র‌্যালি বের করেন আবেগ আপ্লুত সাবেক ও বর্তমানেরা। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দিনব্যাপী এ উৎসব সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হবে।

একনজরে মীর মোশাররফ হোসেন হল
ক্যাম্পাসে স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন প্রজাপতি আকৃতির এই লাল দালানটি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন সবুজের মধ্যে মনোরম এই আবাসিক ভবনের নাম মীর মশাররফ হোসেন হল। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এই হলটির নির্মান কাজ শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। ১৯৭৪ সালে হলটির প্রথম তলা ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ঌ৭৩ সালের ৬ আগস্ট থেকে ১ঌ৭৮ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ নং হল হিসাবে পরিচিত ছিল৷ হলের প্রথম প্রভোস্ট হিসাবে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মেসবাহউদ্দিন আহমেদ ১ঌ৭৩ সালের ৬ আগস্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১ঌ৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলা উপন্যাসিক অমর কথাশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের নামে হলের নামকরন করা হয়। দুটি ব্লকে বিভক্ত এ হলটিতে ৭১৬ জন ছাত্রের আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এক আসন বিশিষ্ট ২৬৪টি এবং দুই-আসন বিশিষ্ট ২২৬টি কক্ষ৷ এ ছাড়া হল সংলগ্ন ১২ জন আবাসিক শিক্ষকের বাসভবন, হলের উত্তর পার্শ্বে দ্বি-তিল হল অফিস, হল ছাত্র সংসদ অফিস এবং হলের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে প্রভোস্টের দ্বি-তল বাসভবন অবস্থিত৷

১ঌ৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে হলের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১ঌ৭৪ এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ছাত্র বসবাস শুরু করে৷ বর্তমানে হল প্রশাসন পরিচালনার জন্য ১ জন প্রভোস্ট, ২ জন ওয়ার্ডেন, ৩ জন আবাসিক শিক্ষক, ৭ জন সহকারী আবাসিক শিক্ষক, ২ জন প্রশাসনিক অফিসার, ২২ জন তৃতীয় শ্রেণী এবং ৪১ জন ৪র্থ শ্রেণীরকর্মচারী ও ডাইনিং বয়সহ ২২জন অনিয়মিত ডাইনিং কর্মচারী রয়েছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ