১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৫৯

ছাত্রী ধর্ষণকারী ছাত্রলীগ নেতাকে ববিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা!

  © টিডিসি ফটো

কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার আসামী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্যু ক্লার্ক এবং জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বনি আমিনকে ঘটনার ৪ দিন পরেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি ১৭ বছর বয়সী ওই কলেজ ছাত্রীর সাথে ঘটা ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পু‌লিশের কমিশনার ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাব‌র বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্মারকলিপি দিয়েছে নারী-শিশু নির্যাতন ও সামাজিক অনাচার প্রতি‌রোধ ক‌মি‌টি।

ম‌হিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুষ্প চক্রবর্তী স্মারকলিপি প্রদান করা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সা‌থে সাক্ষাত ক‌রে বনি আমিনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে বনি আমিনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে ব‌রিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়‌কে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ইস্যু ক্লার্ক বনি আমিনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণাসহ তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণের দাবি জানান।

এদিকে বনি আমিন যে দ‌লেরই হোক, তাকে অপরাধী হি‌সে‌বে গ্রেফতারের চেষ্টা চল‌ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পু‌লি‌শের উপ কমিশনার (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সা‌লেহ্। পাশাপাশি বনি আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছা‌দেকুল আরেফিন।

প্রসঙ্গত, গত ০৯ ফেব্রুয়ারি নগরের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থে‌কে সরকারি ম‌হিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী‌কে অপহরণ ক‌রে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্যু ক্লার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বনি আমিন। এ ঘটনায় পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ভিকটিমের মা বন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযানে নেমে ভিকটিম উদ্ধার করলেও বনি আমিন পালিয়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই বনি আমিনকে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক।