১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:২৪

জবিতে মাইগ্রেশনের নামে লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

  © টিডিসি ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাইগ্রেশনের নাম করে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাকারীয়া ইসলাম ।

অভিযুক্তরা হলেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর সিকদার ঝোটনের ছেলে সায়েম সিকদার ও তার অনুসারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র সামিউল তাসবাহ শিশির, কবি নজরুল কলেজের প্রথম বর্ষের ‍আজিজুল খান রাফি, শোভন, হিমেল এবং সৈকত। এদের মধ্যে শুধু আজিজুল খান রাফিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাকারীয়া ইসলাম জানান, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পরে আমার পজিশন ছিল ২হাজার ৩৬। আমি প্রথমে সাব্জেক্ট পাইনি। পরবর্তীতে ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগে সুযোগ পাই। পরে আজিজুল খান রাফি মাইগ্রেশন করিয়ে আইন বিভাগে ভর্তি করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তখন আমি পরিবারের সাথে কথা বলে জানাবো বলে জানাই। পরবর্তীতে তারা আমার কাছ থেকে ভর্তির রোল নাম্বার নেয় পজিশন দেখার জন্য।’

‘আমি যখন জানতে পারি মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেটিক তখন আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করি। প্রত্যাখান করে দেয়ার পর তারা ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে বলে দাবি করে। তারা মাইগ্রেশনের নামে টাকা চাইলেও আমার মাইগ্রেশন হয়নি। সেই টাকা দেয়ার জন্য নানান রকম হুমকি দিতে থাকে।’ যোগ করেন জাকারীয়া।

জাকারীয়া আরো জানান, অভিযুক্তরা তাকে চলতি মাসের গত ৮ ও ৯ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চাপ প্রয়োগ করে। জানুয়ারির ১৪ তারিখের মধ্যে দাবিকৃত ৮০ হাজার টাকা না দিলে অন্য ঝামেলায় ফাঁসিয়ে আরও বেশি টাকা আদায়ের হুমকি দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) জাকারীয়া ইসলামকে তুলে নেওয়ার জন্য শিশির এবং রাফি ক্যাম্পাসে আসে। এদিকে জাকারীয়া বিষয়টি সিনিয়রদের জানালে তারা রাফিসহ জাকারীয়াকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় । এরপরে আজিজুল খান রাফিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়টি নিয়ে সায়েম শিকদারকে ফোন দিলে ফোনের অপরপাশ থেকে এক মহিলার কণ্ঠে সায়েম সিকদারের নাম্বার নয় বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মামলা করেছেন, ওটা পুলিশ দেখবে। আমাদের কাছে আবেদন করেছে আমরা তদন্ত করে দেখবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা এবিষয়ের সাথে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা করা হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) নূর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ বাকিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।