দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ

জাকিরের সমাবর্তন আটকে দিলো রাবি প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তনে জাকির হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীকে যোগ দিতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাকির দর্শন বিভাগের ২০১০-১১ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। জাকির ঢাকায় একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত রয়েছেন।

ঠিক কি কারণে সমাবর্তনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি তা জানেন না বলে দাবি করেছেন জাকির হোসেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এমএ বারী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তার কাছে গিয়ে শুনেন।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাকির হোসেন জানান, প্রশাসন সমাবর্তনে অংশ নিতে না দিলেও আগের দিন তাকে কর্তৃপক্ষের খুদেবার্তা পান, সুভিনিয়রেও তার ছবিসহ নাম এসেছে। কিন্তু বিকেলে তার বিভাগে গাউন ও সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে দেখেন সেখানে তার নাম নেই।

জাকির আরো জানান, বিকেলে ক্যাম্পাসে এসে এই ঘটনা জানার পরপরই রেজিস্ট্রারের দপ্তরে যান। রেজিস্ট্রার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে যেতে বলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে দেখা করলে তাকে জানান, প্রক্টর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি প্রক্টরের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরকে ফোন দিলে তিনি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো গ্রাজুয়েটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল ইসলাম বলেন, ‘গত প্রশাসনের সময় জাকির হোসেনের সঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষের একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেই সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য তাকে আগেই অবগত করা হয়েছে। সেই সমস্যা সমাধান হয়নি বলেই হয়তো তিনি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না।’

এমন অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করে জাকির বলেন, ‘তাহলে তখন আমি কীভাবে হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের প্রভিশনাল সার্টিফিকেট তুললাম?’ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহ-উপাচার্যের ফোনালাপের সংবাদসহ কয়েকটি অনিয়ম নিয়ে সংবাদ করায় তাকে সমাবর্তন থেকে দূরে রাখা হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘একজন গ্রাজুয়েটের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই।’এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বক্তব্য পায়নি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ