০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:২৫

ইডেনে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: কে এই বহিরাগত নাবিলা?

ছাত্রলীগ নেত্রী রুপার সাথে বহিরাগত নাবিলা (নীল জামা)  © টিডিসি ফটো

বহিরাগত এক মেয়েকে ইডেন কলেজের আবাসিক হলে রাখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। শনিবার ভোরে কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে আর মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

সূত্র জানায়, ইডেন কলেজের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে নাবিলা নামে একজন বহিরাগত থাকতেন। নাবিলা লালমাটিয়া মহিলা কলেজে পড়লেও ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপার আশ্রয়ে ওই হলেই থাকতেন। নাবিলা শুধু হলে থাকতেন না, হলের সিট বাণিজ্য থেকে শুরু করে রুপার সব কাজই করতেন তিনি। এ নিয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বিরাজ করেছিল।

নাবিলার ব্লকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ইডেনে প্রচুর সিট বাণিজ্য হয়, এটা সবার জানা। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আজকের ঘটনার মূল হোতা সেই নাবিলা মেয়েটি একজন বহিরাগত। সে টাকার বিনিময়ে হলে থাকে এবং হলের মেয়েদের শাসন করে বেড়ায়। আমরা শুধু নিজেদের সেফটির জন্য এসব বলিনা।

জানা যায়, নাবিলাকে হলে রাখা নিয়ে অনেকদিন যাবৎ সমস্যা হচ্ছিল। শনিবার ভোরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনজুমানারা অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ওই হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে নাবিলাকে বের হয়ে যেতে বলে এবং তাকে হুমকি দেয়। অনুর অনুসারীদের একজন ছিলেন সাবিকুন্নাহার তামান্না। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির খবর পেয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা দৌড়ে যান ২১৯ নম্বর কক্ষে। রুপা সেখানে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবিকুন তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয় রুপা। পরে অন্যপক্ষ রুপার গ্রুপের কর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা করে।

এ ঘটনায় বহিরাগত নাবিলাকে লালবাগ থানায় হল প্রশাসনের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়। এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুপার রুম ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা বলেন, ‘২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলো। ডিগ্রিতে পড়ে, সে বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করে অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। তিনি বলেন, ওই সময় ২১৯ নম্বর রুমে অনুর অনুসারীরা গিয়ে ঐ রুমের মেয়েদেরকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছিল এবং তাদের মারধরও করেছে। এসময় তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছে। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। তবে সাবিকুন তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে মারিনি। কাউকে ছুরি দিয়ে আঘাত করিনি’।