স্থবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

  © টিডিসি ফটো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ( ববি) উপাচার্য, উপ- উপাচার্য , ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের মত চারটি প্রধান প্রশাসনিক পদই শূন্য হয়ে পড়েছে । ফলে একাডেমিক, প্রশাসনিকভাবে মুখ থুবরে পড়েছে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ।

শিক্ষার্থীদের টানা ৩৪ দিন আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রসেফর ড. এস এম ইমামুল হক ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ২৬ মে ছুটিতে চলে যান। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উপ- উপাচার্যের পদ শূন্য ছিল। এরপর নতুন করে আর উপাচার্য, উপ- উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

উপাচার্যবিহীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসান টানা পাঁচ মাস ধরে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলন। কিন্তু গত ৭ ই অক্টোবর ট্রেজারার মেয়াদ শেষ হলে এ পদও শূন্য হয়।

ট্রেজারার পদ শূন্য থাকলে বিধি অনুযায়ী ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। নারীঘটিত কারণে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম এক বছর আগে প্রথমে সাময়িক ও পরে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হন। বিষয়টি নিয়ে তিনি মামলা করায় নতুন রেজিস্ট্রারও নিয়োগ হয়নি। ফলে ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার পদ শূন্য হওয়ায় ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকারী কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শারদীয় দূর্গাপূজার ছুটি কাটিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তেমন উপস্থিতি নেই। কিছু কিছু বিভাগে ল্যাব - পরীক্ষা সহ রুটিন পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চলতা তেমন চোখে পড়েনি।

এদিকে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনৈতিক কার্যকলাপ ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরশীদ আবেদীনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট ও মানহানিকর বিবৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা, সরকারী বিধি-বিধান বহির্ভূত ও অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্রে বিল প্রদানের জন্য অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আতিকুর রহমানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও অনৈতিক চাপ প্রদান করে দাপ্তরিক কর্মকানণ্ড ব্যাঘাত ও অর্থ তছরুফের।

প্রায়ই অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গত ৭ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হন অধ্যাপক ফজলুল হক। এমনিতেই বেশ কয়েকটি বিভাগে ৫ থেকে ৬ মাস করে সেশনজট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে এটা আরো বাড়তে পারে ভেবে।

এ পরিস্থিতিতে থমকে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও। মাত্র দুইটি একাডেমিক ভবন নিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালে শেষ হবার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ হয় । দ্বিতীয় প্রকল্পে ৪ টি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন হওয়ার কথা রয়েছে ।

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন , উপাচার্য সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত হয়েগেল পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। আমরা শিক্ষার্থীররা এটা থেকে পরিত্রাণ চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে অনুরোধ থাকবে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো: আরিফ হোসেন বলেন, অনিবার্যকারণবসত ১৮ ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কবে ভর্তি পরীক্ষা হবে। তিনি বলেন, দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হলে বিশ্ববিদ্যালয় গতিশীল হয়ে উঠবে।


সর্বশেষ সংবাদ