জাবি উন্নয়ন প্রকল্প

দুই দাবিতে সম্মতি, বিচার বিভাগীয় তদন্তে সময় চাইল প্রশাসন

প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ১৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অপরিকল্পনা, দুর্নীতিসহ তিন দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ক্যাম্পাসে যে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সাথে আন্দোলনকারীদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ই সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘন্টাব্যাপী দীর্ঘ এ আলোচনায় প্রশাসন দুটি দাবি মেনে নিলেও একটির ব্যাপারে আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। বুধবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের আবারো আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার কানিজ ফাতেমা আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলি ঘোষণা করেন। ঘোষণায় তিনি বলেন,

১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশ থেকে ২টি হল সরানো হবে। নতুন জায়গা কোথায় হবে সেটার জন্য মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা কমিটি, সকল ছাত্র সংগঠন, এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
২. বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে আইনজ্ঞদের পরামর্শের জন্য ৩ কার্যদিবস সময় নিয়েছেন উপাচার্য। আগামী বুধবার মিটিং হবে।
৩) পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবেই।

ক. যৌথ মতামতের ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
খ. বিল্ডিংয়ের গুনগতমান নিশ্চিত করার লক্ষে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে।
গ. সর্বদলীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। যারা সমস্ত কাজের অগ্রগতি মনিটর করবেন এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা পর্যালোচনা করবেন।

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন ও অধ্যাপক নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আহসান হাবিব অংশ নিয়েছেন।

অন্যদিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর পক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের অন্যতম সংগঠক জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের দাবির প্রথম এবং তৃতীয়টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। দ্বিতীয় দাবির ক্ষেত্রে তারা সময় নিয়েছে আশা করি এটাও আন্তরিকতার সাথে দেখবে। তবে দ্বিতীয় দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনের দিকে যাওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মোহাম্মদ দিদার আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আজকের আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট। একটি দাবির ব্যাপারে প্রশাসন সময় নিয়েছে বুধবার পর্যন্ত। আলোচনার সার্বিক সফলতা বুধবারের বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আন্তরিকভাবে অপেক্ষারত।’

এর আগে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, গানের মিছিল, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। এছাড়া গত ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন তারা। ৫ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে উপাচার্য তাদেরকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে দাবির বিষয়ে ‘আন্তরিকতার’ শর্তে প্রস্তাবে রাজি হন তারা।

তবে ৭ সেপ্টেম্বর আলোচনার আগ মুহূর্তে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের এক নেতা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করলে সে আলোচনা ভেস্তে যায়।


মন্তব্য