মুখে নয়, সাত কলেজের কার্যকর সমাধান চাই

২০১৭ সালে ন্যাশনাল থেকে রাজধানীর নামকরা সাতটি কলেজ নিয়ে জন্ম হয় ঢাবির অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করাই সরকারি সাত কলেজ সমস্যা সমাধানের নিয়ামক ভাবা হয়েছিল।

তবে নানান সমস্যায় জর্জরিত এই অধিভুক্ত সাত কলেজের সেশনজট, ফলাফল, কলেজ ভবন, প্রশাসনিক দক্ষতা আর প্রাপ্ত সুবিধাগুলো শিক্ষার মানের ব্যাপারে জোড়ালো প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাই ২০১৮ সালে অনার্স ১ম বর্ষে পরীক্ষা দেয়ার পর। প্রায় ৭ মাস পরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় বিপর্যয়। উপন্যাসের মত বিষয়ে আসে ফেল। সাত কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে পাশের হার ৫০ শতাংশরও নিচে। দর্শনে ৭০ শতাংশরও নিচে। ৭ মাস পরে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রকাশিত এমন বিপর্যয় ফলাফলকে লক্ষ্য করে নিজ বিভাগগুলোতে তালা ঝুলিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে আন্দোলন করি আমরা সাত কলেজের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টার মধ্যেই ঢাবি কর্তৃপক্ষ আন্দোলন থামাতে বলে এবং সাংবাদিকদের সামনে বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বস্ত করেন আমাদের।

আমিও সে আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে এখনও আশায় রয়েছি। তবুও হচ্ছে না কোনো সমাধান। ২য় বর্ষে ভর্তির নোটিশ চলে আসছে প্রমোশন পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। এবং তার ভর্তি সময়ও শেষ। বিপরীতে প্রমোশন না পাওয়া আমার জন্য বিশেষ পরীক্ষা তো দূরে থাক কোনো রকম প্রশাসনিক নোটিশ আসেনি। এভাবেই কতদিন অপেক্ষা করে থাকব আমরা? নিজ কলেজ কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট কিছু বলতে পারছে না। ঢাবির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।

কিছুদিন আগে তিতুমীর কলেজে একটি শোক সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাত কলেজের প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন। সাত কলেজের সমস্যা নিয়ে নাকি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। এবং সমাধানের পথেই রয়েছে। নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় বা মানের দিক দিয়ে শিক্ষার্থী যাতে বৈষম্যের স্বীকার না হয় সেই লক্ষ্যে নাকি কাজও করছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এর ফলাফল পেতে কতদিন লাগবে সেটাই চিন্তার বিষয় আমাদের।

 পড়ুন: ঝুলে যাচ্ছে সাত কলেজ ইস্যু!

এভাবে আর কত আশার কথায় হতাশায় থাকব? তাই সাত কলেজের ফলাফল দেরিতে প্রকাশ, ফলাফল বিপর্যয় সহ শিক্ষাবান্ধব প্রশাসন এর জোর দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

 


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ