বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি আদর্শের নাম: সাদিক আবদুল্লাহ

বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তি নয়, বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন তাঁর এই আদর্শ ও চেতনা বেঁচে থাকবে। তিনি ছিলেন একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতা। বঙ্গবন্ধু তাঁর একটি ভাষণের মাধ্যমে ৭ কোটি বাঙালীকে একত্রিত করেছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা তো সেদিনের সেই ভাষণের মাধ্যমেই হয়েছে। তাই আজকে এতদিন পরে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকাল ৩ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস ও শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগস্ট ট্রাজেডির শহীদ পরিবারের সন্তান ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই এ দেশ উন্নত হয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু সমাজকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। তাঁরই দেখানো পথে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করতে তিনি তারুণ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কেননা তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

মেয়র বলেন, তরুণরাই পারবে একটা জাতি, একটা সমাজকে পরিবর্তন করতে। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে হৃদয়ে লালন করি তারা ১৫ আগস্টের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে আসি এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।

আলোচনা সভায় যোগদানের পূর্বে মেয়র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ছয় দফার ইতিহাস সম্বলিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভের পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন। আলোচনা সভার শুরুতে উপস্থিত সবাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের যে সকল সদস্য ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণ করেছেন তাঁদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক বাহাউদ্দীন গোলাপের সভাপতিত্বে শোকাবহ আগস্টের আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেয়রের সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন এ্যাড. এস এম ইকবাল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বরিশালের সভাপতি শ্রী কাজল ঘোষ।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সম্মানিত ডিন, চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিচালক, শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী, দপ্তরপ্রধানগণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রলীগ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক আবু মো. বশির, মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার, মো. জুয়েল মাহমুদ, মো. হারুনর রশীদ, মো. আরিফ হোসেন, শহাজাদা খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কীর্তনখোলা মিলনায়তনের অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আরিফ হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর মিয়া, অফিসারস এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান সহ প্রমুখ।

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম সদস্য সৈয়দা ফাতেমা মততাজ মলি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ