শাটলকে ঘিরে আবারও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি

  © ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাটল ট্রেনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের কর্মী দেলোয়ার ও মুজিব ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মী বখতিয়ার আহত হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী ট্রেনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বখতিয়ারের সাথে কথা কাটাকাটি হয় ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের কর্মীদের। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বখতিয়ারকে মারধর করে তারা।

এ ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। পরে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে রামদা, রড নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। রাত দশটার দিকে সিক্সটি নাইন গ্রুপের দুই কর্মী সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে আসলে তাদের পিটিয়ে জখম করে বিজয়ের কর্মীরা।

পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের শাহজালাল হলে এবং বিজয়ের নেতাকর্মীদের সোহরাওয়ার্দী হলে পাঠিয়ে দেয়।

আহত তিনজন হলেন- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের বখতিয়ার হোসেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মুজিব ও দেলোয়ার হোসেন ফারাবী। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ফারাবীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিজয় গ্রুপ নওফেল ভাইয়ের অনুসারী। তাছাড়া ক্যাম্পাসে নওফেল ভাইয়ের গ্রুপের দায়িত্বে আছেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ভাই। উনার সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এক জুনিয়রকে মারধর করার রেশে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি। বিকেলে এমন ঘটনা ঘটলেও রাত পর্যন্ত সমাধানের জন্য সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বা ওদের কোনো সিনিয়র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাই জুনিয়ররা আমাদের না জানিয়ে মারামারি করেছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রিফাত রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীল পরিবেশে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংঘর্ষে জড়ালে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’

হাটহাজারি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে উভয়পক্ষকে নিজ নিজ হলে চলে যায়।’


সর্বশেষ সংবাদ