চবিতে সায়েম হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম সায়েমকে গাড়ি চাপায় হত্যার প্রতিবাদে গাড়িচালক এমজাত এর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বেলা বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জামিল হোসাইন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান, অধ্যাপক ড.শওকত আরা বেগম,অধ্যাপক ড.হাবিবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা চৌধুরী,সহকারী অধ্যাপক মাহবুবা হাসনাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, বাবা হারা ছেলেটি টিউশনি করে পরিবারের খরচ যোগাড় করতো। কিন্তু চালকের অসতর্কতার কারনে সে প্রাণ হারিয়েছে। আমরা সায়েমকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। এখন আমরা সায়েম হত্যাকারী ঘাতক বাসচালক এমজাতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অধ্যাপক ড. মো: ফরিদ আহসান বলেন, আজকের মানববন্ধন প্রমান করে বিচার ব্যবস্থার কাছে আমরা কতটা অসহায়। শুধু নিয়ম না মানার কারণে এধরনের ঘটনা ঘটে। আমি চাই আর কোন শিক্ষার্থীকে যাতে সায়েমের মতো এভাবে জীবন দিতে না হয়।

অধ্যাপক ড. শওকত আরা বেগম বলেন, আমার বিভাগের সব শিক্ষার্থীই আমার সন্তানের মতো। আর যেন আমার কোন সন্তানকে সায়েমের মতো অকালে জীবন দিতে না হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্তাকে আরো কার্যকরী করার বিকল্প নেই।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ঘটনাটি ঘটার পরপরই আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্তা করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অর্থপ্রদান ও এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এরপরও সায়েমের মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। হত্যাকারী গাড়িচালকের জামিন আমাদের জন্য লজ্জার ও দুঃখজনক। এই হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে সায়েম হত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সায়েমের মৃত্যু আমাদের কলিজায় আঘাত করেছে। এভাবে আর যেন কারো স্বপ্ন ভেঙ্গে না যায়, সেজন্য প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এই হত্যার বিচার না হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করবো আমরা। প্রশাসনের কাছে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।

গাড়ি চালকের অবহেলা যেখানে স্পষ্ট প্রতীয়মান। সেখানে আমরা মামলা দায়ের করার পরও চালকের বিরুদ্ধে প্রশাসন সু্ষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল এখন আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের অভিভাবক। তাই আমরা আশাবাদী হত্যাকারীর সুষ্ঠু বিচারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩শে মে টিউশন থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সায়েম। পরে পুলিশ বাস চালক এমজাতকে আটক ও গাড়ি জব্দ করলেও কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে যায় বাস চালক এমজাত।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ