বুয়েটে অচলাবস্থা কাটেনি, দাবি আদায়ে শুক্রবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা

টানা ষষ্ঠদিনে গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তবে সমস্যা সমাধানে এখনো কোনো পক্ষই উদ্যোগী না হওয়ায় অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনির আজ সেখানে যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তিনি এখনো যাননি বলে জানা গেছে।

ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নবনিযুক্ত পরিচালককে অপসারণ, সাবেকুন নাহার সনির নামে ছাত্রী হলের নামকরণসহ ১৬ দফা দাবিতে ক্লাস–পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন তারা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার এবং আগামীকাল শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কর্মসূচি পালন করছেন না তারা।

এদিকে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীকাল শুক্রবার নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হাসান সারওয়ার সৈকত। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সমস্যার সমাধানে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে আন্দোলন চলবে। শুক্রবার নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে আসবেন বলে আমরাও শুনেছি। তবে কখন আসবেন তা জানি না। তিনি আসলে আমরা আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলব।’

গত ২২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নতুন পরিচালক পদে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম মিয়া। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেছেন, পদটিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না, তড়িঘড়ি করে এটি করা হয়েছে। অধ্যাপক কাশেমের আগে পদটিতে থাকা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদারকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছে।

এছাড়া তাদের১৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়ন প্রোগ্রাম চালু রাখা, যাবতীয় লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রবর্তন, টিএসসি ও ন্যাম ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধ করা, ক্যাম্পাসকে ওয়াই–ফাইয়ের আওতায় আনা, বুয়েটের প্রবেশমুখে ফটক নির্মাণ, ব্যায়ামাগার আধুনিকায়ন, পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড সিস্টেম চালু ইত্যাদি।


মন্তব্য