কে হচ্ছেন নোবিপ্রবি উপাচার্য?

বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য পদ গত ২ জুন থেকে খালি রয়েছে। কে হচ্ছেন পরবর্তী উপাচার্য— নোবিপ্রবির সব মহলেই এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা।

জানা গেছে, নোবিপ্রবির পরবর্তী উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনজন অধ্যাপক। এরা হলেন, ঢাবির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম, ঢাবি অধিভুক্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও নোবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য ও ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অহিদুজ্জামান।

সূত্র মতে, এ তিনজনের মধ্যে নোবিপ্রবি উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলমের। তিনি ১৯৬৯ সালে নারায়ণগঞ্জের জয়গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করে স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন থেকে ১৯৯০ সালে প্লান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন সিলেকশন গ্রেডের এ অধ্যাপক। এছাড়া তিনি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন।

ঢাবি অধিভুক্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে নোবিপ্রবির সম্ভাব্য উপাচার্য হিসাবে।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে নোবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য ও ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অহিদুজ্জামানের নামও। তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনও করা হয়েছে। তবে নোবিপ্রবি উপাচার্য পদে পুনরায় নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম অহিদুজ্জামানের। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও নিয়ম-বহির্ভূত উপায়ে নানা সুবিধা গ্রহণসহ আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সদ্য সাবেক এ উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নোবিপ্রবির সম্ভাব্য উপাচার্যদের তথ্য সংবলিত (সামারি) ফাইল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করার পর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি নোবিপ্রবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেবেন।

নোবিপ্রবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফারুক উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে দেশের ২৭ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা করে নোবিপ্রবি। জেলার সোনাপুরে ১০১ একর জায়গা ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়।


মন্তব্য