সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সুবিধাবঞ্চিত পথ শিশুদের চোখভরা স্বপ্নকে রাঙ্গিয়ে দিতে ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক উদ্যমী তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে হাবিপ্রবি মজার স্কুল । পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে হাবপ্রিবি মজার স্কুলের আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক গরীব-দুস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ।

রবিবার দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে এই ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয় । বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ।

মজার স্কুলের শিক্ষার্থীরা

 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার ,রেজিস্টার প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক, পরিকল্পনা ও কাজ উন্নয়ন শাখার পরিচালক প্রফসর ড. মো.মোস্তাফিজুর রহমান , ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড.মো.মফিজুল ইসলাম ,জেনেটিক্স এন্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়া , ,বায়োকেমিস্ট্র এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসিন প্রধান ,উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হাসানুর রহমান রাজু , সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুদ্দিন দুরুদ সহ হাবিপ্রবি মজার স্কুলের সদ্য বিদায়ী নেতৃবৃন্দ ।

ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেষে মজার স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) কেন্দ্রে ইফতার করা হয়। এতে মজার স্কুল কমিটির সাবেক ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ,বেটার টুম্যোরো,সুইডেন ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (GUK)।

স্কুলটির যাত্রা শুরু করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে সুঝিয়ে মজার স্কুলে নিয়ে আসা হয়। হাবিপ্রবি স্কুলে অস্থায়ীভাবে তাদের ক্লাস নেয়া হয়। স্কুল ছুটির পর মজার স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। বঞ্চনার শিকার কোনো শিশু একবার মজার স্কুলে এলে আর ফিরতে চায় না। মজার স্কুলের মমতাময়ী শিক্ষকদের মমতা আর মায়াময় পরিবেশে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে মমতার টানেই প্রতিদিনই ছুটে আসে ওইসব শিশু। মজার স্কুলে আসা সবশিশু বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম, রাবার, স্কেল, পেন্সিলসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন সরবরাহ করা হয়। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, মজার স্কুল শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিশুদ্ধতার জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার সুযোগও করে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হচ্ছে স্কুলটি। এ তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের পকেট খরচ থেকে কিছু অর্থ বাঁচিয়ে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের বই, খাতা, কলম ও টিফিনের জন্য ব্যয় করছে। স্কুলটির শিক্ষক রয়েছে ৪০ জন। শিশুশ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয় এখানে। শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাস নেন। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে পথ শিশুদের ক্লাস।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ