ইউআইটিএস উপাচার্যের কাছে ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি বঙ্গলীগ প্রেসিডেন্টের

জাতীয় বঙ্গলীগ প্রেসিডেন্ট শওকত হাসান মিয়া  © সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) উপাচার্যের নিকট ৬০ কোটি চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘বাংলাদেশ জাতীয় বঙ্গলীগ’-এর প্রেসিডেন্ট শওকত হাসান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। গত ২ জানুয়ারি এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন ইউআইটিএসের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোস্তফা কামাল। মামলার নম্বর- ২(১)২০।

শওকতকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় আগাম জামিন নিয়েই লাপাত্তা হয়ে গেছেন শওকত হাসান। আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের জামিন দিলে তা শেষ হয়েছে গত ১৮ মার্চ। কিন্তু নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি তিনি। পুলিশ জানিয়েছে,জামিন নিয়েই পালিয়েছেন শওকত। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

একই মামলার আসামি এসএম মাহমুদ হাসান সম্প্রতি জামিন নিয়েছেন। ওই চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ইউআইটিএসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে অ্যাসার্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান এবং বারিধারার জামালপুর টাওয়ারের মালিক শওকত হাসান মিয়ার বিরুদ্ধে ‘ইউআইটিএস’র দায়েরকৃত জাল-জালিয়াতির মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চার্জশিট দিয়েছে।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদেরকে বলেন, ইউআইটিএসের উপাচার্যকে প্রাণনাশের হুমকি ও ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন আসামি শওকত হাসান মিয়া। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  তবেতদন্তে গড়িমসির অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শওকত হাসানের মালিকানাধীন ‘জামালপুর টুইন টাওয়ার-২’ ভাড়া নিয়ে ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালায় ইউআইটিএস। এরই মধ্যে ভাটারায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ হলে ২০১৯ সালের মে থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর শুরু হয়। উপাচার্যও স্থায়ী ক্যাম্পাসে অফিস শুরু করেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শওকত হাসান এবং তার ক্যাডাররা উপাচার্যের কাছে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়াও মালামাল স্থানান্তরে বাধা দেন। এ বিষয়ে ২০ নভেম্বর একটি জিডি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে ইউআইটিএসের উপাচার্যের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি করেন শওকত হাসান। চাঁদা না পেয়ে প্রাণনাশের ভয়ভীতিও দেখান তিনি। এর আগেও বঙ্গলীগের প্রেসিডেন্ট শওকত ভাড়াটিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

জানা গেছে, শওকত হাসান মিয়ার বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলাধীর কুলকান্দী ইউনিয়নে। সেখানকার অনেকের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে শওকতের সম্পত্তির বিবরণাদি প্রদানের নোটিশ প্রদান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


মন্তব্য