‘আমি সাহায্য চাই, আপনারা চাইলে আমাকে থেমে যেতে হবে না’

ফারহান হক উষ্ময়
ফারহান হক উষ্ময়  © টিডিসি ফটো

বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া ছেলে ফারহান। সম্প্রতি তার দুটো কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। সবাইকে পাশে পাওয়ার আশা নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস লিখেছে সে। ফারহান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছে, আমি সাহায্য চাই, আপনারা চাইলে আমাকে থেমে যেতে হবে না।

ফারহান নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ত্রিপলি) ডিপার্টমেন্টর ১৩তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

ফারহান হক উষ্ময় তার পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে লিখেছে, আমাকে আমার মা একাই বড় করেছে। আমার বাবা আমাদের সাথে থাকেন না। তবে এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই, আমি শুধুই পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য এটা লিখলাম। আমাকে ঘিরেই মা পুরো জীবন পার করে দিলো। হ্যাঁ, আমি নানা বাড়িতে থাকি।

২০১০ সালে কিডনি রোগ ধরা পড়ে ফারহানের। এরপর কয়েকটা বছর ভালো যায়। কিন্তু এটা তো থেমে থাকার নয়, ২০১৭ সালে আবারো হানা দেয় ফারহানকে। সেবারও পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে।

তারপরে কিছু সময় আবার সুস্থ মানুষের মতো পার করছিলাম। সবই ঠিক যাচ্ছিল, সর্বশেষ ১৩ মার্চ সকালে আমি উঠে দাঁড়াতে পারছিনা। প্রেসার ১৮০/১২০, চোখ লাল হয়ে আছে। আমাকে তাড়াহুড়ো করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারে ১৩ দিন ভর্তি থাকি। এই হাসপাতালে চিকিৎসায় আমার দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। তারপর বিএসএমএমইউর চিকিৎসকের পরামর্শে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস নেওয়া শুরু করলাম। ফারহান ১৫ এপ্রিল থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বেশ কয়েক জায়গায় ডাক্তার দেখানোর পর সবার কাছ থেকে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাম, তা হলো কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট। একবার কোথায় যেন শুনেছিলাম যে কয়েকটা ডায়ালাইসিসের মধ্যেই কিডনি ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু আমার তো এখন চার মাস ডায়ালাইসিস চলছে, সপ্তাহে দুইবার করে। তার উপর রক্ত তৈরি হয় না, এই কারণে একটা ইঞ্জেকশন দিতে হচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। আগে কিছু ব্যাগ রক্ত নিয়েছিলাম, তারপর ডাক্তার রক্ত নিতে নিষেধ করলেন। এতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টে সমস্যা হবে। তাছাড়া আয়রন, হেপাটাইটিস বি দিতে হয়েছে। ডায়ালাইসিসের পেছনে আমাকে ৫০-৬০ হাজার টাকা প্রতি মাসে দিতে হচ্ছে। এর সাথে আমার জীবন যাত্রা এবং খাবারের খরচেরও একটা পরিবর্তন এসেছে।

আমার দুটি কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। আমার রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ এবং আমার আত্মীয় কেউ নাই যে আমাকে কিডনি দিবে। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, বাবা, মা, ভাই, বোন, খালা, মামা, চাচা, ফুপি, ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনী এবং স্ত্রী ব্যতীত আর কেউ কিডনি দিতে পারবে না।

এ অবস্থায় ফারহানের কী হবে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ডাক্তার তাকে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলেছেন। ফারহান লিখেছে আমি খোঁজ নিয়ে যেটুকু জেনেছি, শুধু কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে খরচ হবে ২০ লাখ টাকা। ডাক্তার আমাকে ৩০-৩৫ লাখ টাকা হাতে নিয়ে নামতে বলেছেন। ডাক্তার বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব আমাকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে। কেননা সময় যত যাবে, তত আমার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

সবাইকে পাশে থাকার আকুতি জানিয়ে স্ট্যাটাসটিতে ফারহান আরো লিখেছে, সপ্তাহে দুইবার করে আমি ডায়ালাইসিস করছি এবং গড়ে ৬০ হাজার টাকা খরচ ধরে আমি কোনো ভাবেই কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো না। এটা যেন উপর থেকে নেমে আসা এস্কেলেটরে উঠার চেষ্টা। আমার পারিবারিক অর্থ বলতে কিছুই নেই। এই মুহূর্তে কামরুল ভাইয়ের দেওয়া দুই লাখ টাকা ছাড়া আমার কাছে কোনো টাকা নাই। তাই আমি সাহায্য চাচ্ছি, সবার কাছে। হয়ত আপনারা সবাই চাইলে আমাকে থেমে যেতে হবে না। আপনার প্রতিটি সাহায্য মূল্যবান এবং আপনার সামান্য সাহায্য মিলেই বেঁচে উঠবো আমি।

ফারহানকে সহযোগিতা করতে নিচের মাধ্যম গুলো অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বিকাশ: 01676474115 (ফারহান)
01712456934 (তার অভিভাবক)।
ঠিকানা : ২৮/প, রিয়াজবাগ, খিলগাঁও, তালতলা, ঢাকা-১২১৯।

ব্যাংক একাউন্ট: name : Farhan Hoque
Account Number: 1781570002514, Dutch Bangla Bank, Rampura Branch. Routing number : 090275740. Swift code: DBBLBDDH178. International Bank CODE : 090


সর্বশেষ সংবাদ