বেতন গ্রেড ও পদোন্নতি জটিলতা সমাধানের আশ্বাস গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

বেতন গ্রেড ও পদোন্নতি জটিলতা সমাধানের আশ্বাস গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
  © সংগৃহীত

টাইমস্কেল, পদোন্নতি জটিলতা ও বেতন গ্রেড নিয়ে সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ সচিবালয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা  করেন।

এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সফল আলোচনা হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম জানান, প্রধান শিক্ষক সমিতির সমিতির মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ তিনি সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, আলোচনার বিষয় ছিল প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল, পদোন্নতি, ১০ম গ্রেড, সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষকদের বেতন সমতা, পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন তিনটি টাইমস্কেলপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের চেয়ে কমে যাওয়া এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রসঙ্গে।

আলোচনার শুরুতেই তারা অতিরিক্ত সচিব এ এন মনসুরুল আলমে সাথে আলোচনায় বসেন। তারা প্রধান শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির প্রসঙ্গ তোলেন। এসময় অতিরিক্ত সচিব বলেন, পদোন্নতির নীতিমালা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রী পরিষদে পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকে রিভাইস করার জন্য ফিরে এলে বিভাগীয় পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি ও বয়সের পরিসীমা তুলে দেয়া হবে। এছাড়া যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া হবে।

এরপর বেতন সমতা নিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন সমতা করে পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী ফিক্সেশন করা হবে।

তৃতীয়ত ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইমস্কেল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের টাইমস্কেল দিতে চাইলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে ৯ মার্চ হতে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নিত হওয়ায় টাইমস্কেল দেওয়ার সুযোগ নেই।’

বদরুল আলম বলেন, ‘তখন আমরা উত্তরে বলেছি, ২০১৫ সালের জাতীয় পেস্কেলে সুস্পষ্টভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টাইমস্কেল প্রদানের কথা উল্লেখ আছে। সবাই পেলে আমরা কেন টাইমস্কেল পাবোনা?’ অতিরিক্ত সচিব জবাবে তাদেরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দেখতে বলেছেন।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন সহকারী শিক্ষকদের চেয়ে স্কেল কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের বেতন উচ্চ ধাপে ফিক্সেশন করার পরে তা ঠিক করে দেব। এ বিষয়ে কোন সমস্যা হবে না।’

এরপর তারা অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিতের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘সরাসরি আপনাদের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইমস্কেল প্রদানের কথা বলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় না দেয়ার কোন কারণ দেখছি না। আপনারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় বসেন।’

সর্বশেষ তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি টাইমস্কেল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘টাইমস্কেল দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আপনারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন।’

এছাড়া সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমানকে টাইমস্কেল বাস্তবায়নের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কথা জিজ্ঞেস করেন শিক্ষক নেতারা। উত্তরে তিনি তাদেরকে বলেছেন, ‘গত মাসের ৪ তারিখে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।’

বদরুল আলম মুকুল বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে আলোচনার সার সংক্ষেপ হলো, অর্থ মন্ত্রণালয় টাইমস্কেল না দিলে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছুই করার নেই। তারা অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।এছাড়া অন্যান্য সমস্যাগুলো আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যহত রাখলে অচিরেই সমাধান হবে।’ পরবর্তী জুম মিটিং ও শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী সমিতির করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ