যৌনপল্লীর শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিল পুলিশ, ছবি ভাইরাল

যৌনপল্লিতে শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ   © সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার নাম শুনলে সবার আগে চোখে ভেসে আসে যৌনকর্মীদের কথা, পতিতালয়ের কথা। তবে পুলিশের চেষ্টায় দিনকে দিন সেই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। ধীরে ধীরে ‘দৌলতদিয়া পতিতালয়’ এখন দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়া নামে পরিচিতি লাভ করছে।

এই অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে অনেক দূরেই থাকত। অনেকে স্কুলে গেলেও একটু বড় হলেই পারিবারিক পেশায় জড়িয়ে পড়তেন। তবে শিশুদের লেখাপড়ায় উৎসাহ যোগাতে অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো।

তারই ধারাবাহিকতায় দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর সুবিধাবঞ্চিত তিন শতাধিক শিশুর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ ও চাইল্ড ক্লাবের উদ্যোগে দৌলতদিয়ায় মুক্তি মহিলা সমিতি কার্যালয়ের সামনে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এদিকে দৌলতদিয়ার এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের একটি ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তার সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

ছবি শেয়ার করে তার ক্যাপশনে হাবিবুর রহমান লিখেছেন ‘পতিতাপল্লীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করতে আজ সেখানে গিয়ে অনুভব করলাম: এক একজন নারী এক একটা উপন্যাস। আর নিষ্পাপ শিশুগুলো এক একটা অপার সম্ভাবনা। একজনকে কোলে নিলাম, কি নিষ্পাপ চাউনি!! যেন বলতে চায়, আমি তো পাপী হিসেবে জন্মাইনি!! করুণ চোখের অব্যক্ত ভাষা যেন ফিসফিস করে বলছে, ‘কে আমার বাবা?’

এদিকে হাবিবুর রহমানের এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। সেই ছবিতে ইফতেখারুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন ‘এই ভাবনা যে কতটুকু জরুরি স্যার! অনেকেই আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, হচ্ছে। কেউ কেউ নিজের কাজ দিয়ে কালোত্তীর্ণ হয়ে উঠেন, আপনি তাই হবেন স্যার- এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস’!

লিমা মির্জা লিখেছেন ‘ওদের কাছ থেকে দেখা ও কথা শোনার সুযোগ হয়েছে, চাকরির সুবাধে। ওদের কেস স্টাডি করেছি। বিশাল এক করুণ অভিজ্ঞতা। আমরাই ওদের কাছে যাই আবার আমরাই ওদের কে দূরে ঠেলে দেই। খুবই দূখঃজনক ওদের ইতিহাস। না,দেখলে দূর থেকে বোঝা যাবেনা। আমাদের সকল কেই এগিয়ে আসতে হবে, ওদের জন্য সত্যিকারের কাজ করতে হবে।শুভ কামনা’।

আনোয়ার সাঈদ নামে একজন লিখেছেন ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া অবহেলিত মানুষগুলোর জন্য আপনার যে ভাবনা সেটা তাদেরকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে যেমন সহায়তা করে তেমন আমাদেরকেও অনুপ্রাণিত করে আপনার দেখানো পথে হাঁটতে।আপনি সারা বাংলাদেশের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব যার আলোকচ্ছটায় আলোকিত হয়ে উঠছে সমাজের অনেক অন্ধকার অংশ।শুভকামনা স্যার’।

আফসানা আফরোজ লিখেছেন ‘আমি নারী, আমি জননী, জন্ম জন্মান্তরে। কাল হতে কালান্তরে, যুগে যুগে আমি জননী। আমি উত্তর আমি সৃষ্টি কোটি-কোটি ছায়াপথ গামি গ্রহ নক্ষত্র পুঞ্জ মধ্যে আমি প্রাণ। আমি শব্দ, আমি অংকুর, আমি বীজ মন্ত্র আমি জীবন, আমি সেই আদি, আমি সেই অন্ত, আমি সৃষ্টি, আমি স্থিতি, সমস্ত অন্যায় প্রবঞ্চনা সমস্ত প্রতারণার যুদ্ধক্ষেত্রে নির্মম তীক্ষ্ণ তীব্র। আমি সেই মহা শক্তি, আমি জননী।’ স্যার আপনার প্রত্যেকটা মহত কাজে অনেক অনেক শুভকামনা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ