প্রাথমিকের তিন প্রধান শিক্ষককে শোকজ

ভুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দেওয়ানোর অভিযোগে ৩ প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে ২৪ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে পিইসি পরীক্ষার আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলায় রবিবার থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৯টি কেন্দ্রে ৫৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা থেকে এবছর ৭৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রথম দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শিক্ষা কর্মকর্তার অনুসন্ধানে ২টি কেন্দ্রের ৩টি প্রতিষ্ঠানের ২৪ জন পরীক্ষার্থী ভুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছাতিয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ১৫ জন, রামপুরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার তিনজন ও ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ছয়জন।

এই ২৪ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে সংশ্লিষ্ট ৩ প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের নিকট জবাব চেয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ৬ শিক্ষার্থী রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়টি জানার পর শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তাদের কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপজেলার গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মারুফ আহম্মেদ বলেন, এসব শিক্ষার্থী তথ্য গোপন করে পিইসি পরীক্ষায় ফরম পূরণ (ডিআরভুক্ত) করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় শিক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া নোটিশের জবাব যথাসময়ে দেওয়া হবে। এদিকে রামপুর ও রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ