পাসের ছয় বছর পর কার্যকর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন

পাসের ছয় বছর পর কার্যকর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন
  © ফাইল ফটো

২০১৪ সালে প্রণীত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ‍এবার ছয় বছর পর তা কার্যকর হলো। গত রোববার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কার্যকর ঘোষণা করা হয়। এর আগে এই আইনটি ২০১৫ সালের ৬ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেনের স্বাক্ষরে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ২০১৪ এর ধারা ১ এর উপধারা ২ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার এতদ্বারা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ২০১৪ কার্যকর করলো। উল্লেখ্য উপধারা ২ এ বলা হয়েছে ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।’

বর্তমান সরকার তার বিগত মেয়াদে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার শ্রেণিবিভাগ ও বয়সসীমা নির্ধারণ করে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক ও বয়স্ক এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা- এ দুই ভাগে ভাগ করার লক্ষ্যে এ আইন পাস হয়।

শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে স্বাক্ষর জ্ঞানদান, জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদে পরিণতকরণ, আত্মকর্মসংস্থানের যোগ্যতা সৃষ্টিকরণ এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশে এই আইনটি পাস হয়েছিল। আইনে প্রাথমিক শিক্ষার বয়স ৮ থেকে ১৪ বছর এবং বয়স্ক শিক্ষার বয়সসীমা ১৫ ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে একজন মহাপরিচালককে প্রধান করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো স্থাপন এবং ব্যুরোর জনবল কাঠামো, প্রধান কার্যালয় ও শাখা কার্যালয়, ব্যুরোর কার্যাবলী বিষয়েও বিধান রয়েছে।

১১টি অধ্যায়ে বিভক্ত হয়ে আইনটিতে ৩৫টি ধারা রয়েছে। আইনের সংজ্ঞায় চার ধরনের শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। যেগুলো হলো ‘অব্যাহত শিক্ষা’ অর্থ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌলিক শিক্ষার (সাক্ষরতা ও প্রাথমিক শিক্ষা এবং জীবনদক্ষতা) বাইরে জীবিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও জীবনব্যাপী শিখন-প্রক্রিয়ার আওতায় উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ; (২) ‘‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা’’ অর্থ এই আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাহিরে ঝরিয়া পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং পদ্ধতিগতভাবে বিন্যাস্ত শিখন প্রক্রিয়া যাহা জীবনব্যাপী শিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত; (৩) ‘‘কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার’’ অর্থ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাহিরে শহর বা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিষ্ঠিত এবং স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত কমিউনিটি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন রকমের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত শিক্ষা কেন্দ্র; এবং (৪) ‘‘জীবনব্যাপী শিক্ষা’’ অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক বা উপানুষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যক্তির সমগ্র জীবনে নানা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ যাহা চিত্তের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, অর্জিত দক্ষতার ক্রমবিকাশ কিংবা জীবনমানের অব্যাহত উন্নয়নের সহায়ক হয় এইরূপ শিক্ষা।

এছাড়া এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও যুব নারী-পুরুষদের শিক্ষাদানের কথা বলা হয়েছে। এতে ১২ ধরণের প্রতিবন্ধিতার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো- (ক) অটিজম ও অটিজমস্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডারস; (খ) শারীরিক প্রতিবন্ধিতা; (গ) মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা; (ঘ) দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা; (ঙ) বাক প্রতিবন্ধিতা; (চ) বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা; (ছ) শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা; (জ) শ্রবণ-দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা (ঝ) সেরিব্রাল পালসি; (ঞ) ডাউন সিনড্রোম (ট) বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা; এবং (ঠ) অন্য কোন প্রতিবন্ধিতা।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ