০১ আগস্ট ২০২০, ০৯:০০

ঈদে ছাত্রনেতারা কে কোথায়

  © টিডিসি ফটো

আজ শনিবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদের আবহ ভিন্ন রকমের। গ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের বড় বড় উপলক্ষ কোরবানির ঈদেও অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের ঢাকায় কাটাতে হচ্ছে। করোনাকালে ছাত্রনেতাদের ঈদ প্রস্ততির খোঁজ নিয়েছে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস।

জানা যায়, করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর ঈদুল আজহার আনন্দ অনেকটা বিঘ্ন ঘটেছে। করোনার কারণে অনেক ছাত্রনেতা বাড়ি যাননি। আবার অনেকে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য গ্রামে গেছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় পরিবারের সাথে ঈদ করতে বরিশালের বাবুগঞ্জে গেছেন। পরিবারের সাথে কোরবানি দিচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় ঈদ করছেন। তবে, এ বছর তিনি কোরবানি দিচ্ছেন না।

এদিকে, কোরবানির ঈদের আনন্দে শামিল হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য অন্যান্যদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরবানি দিচ্ছেন।

লেখক ভট্টাচার্য দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরবানি দিচ্ছি। এইমাত্র সব ব্যবস্থা করে আসলাম।

সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারী ঈদের আনন্দে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এবারের ঈদে স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে সবাইকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল তাদের নিজ বাড়িতে কোরবানি দিচ্ছেন। ফজলুর রহমান খোকন বর্তমানে তার নিজ এলাকা বগুড়ায় ও ইকবাল হোসেন শ্যামল নরসিংদীতে অবস্থান করছেন।

ইকবাল হোসেন শ্যামল জানান, পরিবারের সাথে ঈদ করার জন্য বর্তমানে আমার বাসা নরসিংদীতে আছি। করোনার এই মহামারীতে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক পৃথিবী। দূর হোক মহামারী প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিকতা ও গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ। সম্ভাবনার নতুন আলোয় আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।

ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূর তার নিজ এলাকা পটুয়াখালিতে ঈদ করছেন। তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানও তার নিজ এলাকা ঝিনাইদহে ঈদ করছেন।

ভিপি নূর বলেন, আমি পরিবারের সাথে ঈদ করার জন্য বাসায় এসেছি। ঈদের যে অনাবিল আনন্দ সেই আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এদিকে, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী ঢাকায় কোরবানি দিচ্ছেন। তিনি জানান, এ বছর আমি ঢাকায় কোরবানি দিচ্ছি। এছাড়া আমার পরিবারও আমাদের এলাকায় কোরবানি দিচ্ছে।

রাব্বানী বলেন, ছিন্নমূল, কর্মহীন, অসহায়, ক্ষুধার্ত পেটের সংখ্যা এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তাই কোরবানি দেয়ার মতো সামর্থ্যবান মানুষ কম। যারা কোরবানি দিচ্ছেন, অনুগ্রহপূর্বক নিজের ভাগের যৎসামান্য রেখে পুরোটা সামর্থ্যহীন আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, এই মহাদুর্যোগকালেও আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও সামর্থ্যবান রেখেছেন। এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রেখে বাকিটা বিলিয়ে দিন।