টর্চার সেলের বিষয়টার সাথে আমরা কখনো পরিচিত না: জয়

আল-নাহিয়ান খান জয়  © ফেসবুক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বা ছাত্রলীগে টর্চার সেলের বিষয়টার সাথে আসলে আমরা কখনো পরিচিত না। এ বিষয়টা হঠাৎ করে কেন আসল কোথায় থেকে আসল আমরা বুঝতেছিনা। এসময় তিনি টর্চার সেলকে একটা ষড়যন্ত্র অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

এরআগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যও। তিনি বলেন, টর্চার সেলের সঙ্গে ছাত্রলীগ পরিচিত নয়। টর্চার সেলের নামও ভালোভাবে জানে না ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একটি মহল চক্রান্ত করে ছাত্রলীগের সঙ্গে টর্চার সেলকে জড়াচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৯টি হল রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি হল ছেলেদের, ৫টি মেয়েদের এবং একটি ইন্টারন্যাশনাল হল। ছেলেদের প্রতিটি হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে মোট ৪টি গ্রুপ রয়েছে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট একাধিক দিনে ৪টি গ্রুপেই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষকে রাতে গেস্ট রুমে আসতে হয়।

মেয়েদের হলে ছাত্রলীগের গ্রুপ থাকলেও গেস্ট রুমের মাত্রা কম। ছেলেদের ১৩টি হলের প্রতিটিতে একাধিক টর্চার রুম রয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই টর্চার রুম নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি পড়ালেখা করার জন্য। কিন্তু রাতে দুই-তিন ঘণ্টা গেস্ট রুমে বড় ভাইয়েরা আটকে রাখে। প্রোগ্রাম থাকলে অনেক সময় ক্লাস বাদ দিয়ে প্রোগ্রামে যেতে হয়। প্রোগ্রামে না গেলে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। আমাকে একদিন থাপ্পড় দিয়েছে প্রোগ্রামে না যাওয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি পড়ালেখা করার জন্য, প্রোগ্রাম করার জন্য নয়। কিন্তু কার কাছে বিচার দেব। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তুলনায় হলের সিট সংকট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিটের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিট বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করেন হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এই সুযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিটের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে যেতে বাধ্য হন। রাজনৈতিক প্রোগ্রামে না গেলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

মূলত যখন যে ছাত্র সংগঠন হলের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাদের সন্ত্রাসীরাই হিরোইজম দেখানোর জন্য এই বর্বর কালচার ধরে রেখেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যখন যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের ছাত্র সংগঠন হলে দখলে রেখে গেস্টরুম, পলিটিক্যাল রুম, গণরুম, টর্চার রুম তৈরি করেছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন যেমন ছাত্রদলের দ্বারা নিরীহ ছাত্রদের ওপর টর্চার হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের দ্বারা সেই ধারাবাহিকতাই চলছে।

তবে অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, কোন শিক্ষার্থী এসব বিষয়ের শিকার হলে আমাদের অবহিত করতে হবে। সেজন্য আমরা প্রতিটি হলে হলে অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছি। প্রতিটি হলে নিয়মিত মাসিক সভারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগ এলেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ