আপা, বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয়েই আমাদের পরিচয় নেই!

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেদী হাসান সুমন নামের ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডিতে চিঠিটি প্রকাশ করেন।

মেহেদী হাসান সুমনের ফেসবুক স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘প্রিয়
শেখ হাসিনা আপা,
আদর্শিক ও সাংগঠনিক নেত্রী
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 

আপা,আমি একজন ক্ষুদ্র ছাত্রলীগ কর্মী। জানি না আমার এই লেখা আপনার পর্যন্ত পৌছাবে কি না! আল্লাহর রহমতে আপনি ভালো আছেন, কারণ আপনি ভালো না থাকলে তো দেশ ভালো থাকে না। আপা আমি যে বিষয়ে বলতে চাই, তা আপনি ভালো করে জানেন। কারণ এটা আপনার জন্মভূমিতে অবস্থিত, আপনার পিতার নামে নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কিছু কথা।

আপা, আপনি ২০০১ সালে ৫৫ একর জায়গার উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এ দেশের যারা কখনো ভালো চায় না, সোনার বাংলাকে যারা পাকিস্তান করতে চাই সেই বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করার পর আপনার সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছিল। কিন্ত রুখবে আপনায় কে? আপনি তো বঙ্গবন্ধু মুজিবের মেয়ে।

তাই পরবর্তীতে আবার আপনার দল সরকার গঠন করলে আবারো এই বিশ্ববিদ্যালয় এর কাজ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১১-২০১২ সালে মাত্র ১৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রাণের এ ক্যাম্পাস।সেদিন থেকে এই ক্যাম্পাস আবার সপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

আপা, বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এর মত এ ক্যাম্পাসেরও কিছু শিক্ষার্থীরা তখন বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া উপমহাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগ এর যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দীর্ঘ ৮ বছর পর এখন প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী, যারা প্রত্যকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ছাত্রলীগ এর রাজনীতি এর সাথে জড়িত। কিন্তু আমাদের সঠিক কোনো পরিচয় এখনো ও পেলাম না আপা। সবাই বলে গোপালগঞ্জ যেহেতু আপা ছাড়া আর কেউ পারবে না এই কমিটি দিতে। তাই আপনার বরাবর এই আবেদন!

আপা সোহাগ-নাজমুল থেকে শুরু করে শোভন-রাব্বানী কমিটি অনেক বার কথা দিয়েছে আমাদের কিন্তু বারবার হতাশ করেছে আমাদের।

আপা, আমরা কমিটি ছাড়াই পিতা মুজিবের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে চলেছি, কিন্তু এখন অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমাদের থেকে, কারণ তারা ধরেই নিয়েছে এখানে রাজনীতি করলে কোন ভবিষ্যত নাই। আপা, আমাদের পিতা-মাতা গর্ব করে বলতে চায় আমার ছেলে/মেয়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় এ ছাত্রলীগ করে। আপা, একমাত্র আপনিই পারেন সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে এখানে ছাত্রলীগ কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে। অনেকের কাছে আমরা গিয়েছি কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাদের সপ্নকে সত্য করার জন্য সহযোগিতা করেনি আপা, সবাই সবার গ্রুপিং নিয়ে ব্যস্ত। আপনি ছাড়া আর কেউ আমাদের জন্য কিছু করবে না আপা।

আপা, আমাদের ক্যাম্পাস থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন বাঙালির মহানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক ও স্থপতি, জাতির জনক, রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।প্রতিনিয়ত আমরা দেখি যে, দেশের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি হওয়ার পর পিতা মুজিবের সমাধীতে শ্রদ্ধা জানাতে আসে কিন্তু আমরা খাঁচায় বন্দী পাখির মত দূর থেকে দেখতে থাকি। আমরাও সপ্ন দেখি আপা।

আপা, আমরা এখানে কমিটি পাওয়ার দাবিদার। কারণ আমরা যার নামের ক্যাম্পাসে পড়ি তিনি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।যার মেয়ে এখন ছাত্রলীগ এর একমাত্র সাংগঠনিক নেত্রী ও অভিভাবক। আমাদের হাজারো ছাত্রলীগ কর্মীর একটাই মনের আশা আপনি আমাদের একটা পরিচয় করে দেন। না হলে আমরা আরো বেশী ভেঙে পড়বো কিন্তু পথ ছাড়বো না।

জয় হোক আপনার,
জয় হোক এ বাংলার
জয় হোক বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগের,
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।
হাজারো ছাত্রলীগ কর্মীর পক্ষ থেকে।’


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ