৭০ বছরে চতুর্থ বিয়ে, মেয়ের চেয়ে বয়সে ছোট স্ত্রী (ফটোফিচার)

  © সংগৃহীত

কবীর বেদী একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ে নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন এমন শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী তিন সন্তানের মধ্যে বেদী ছিলেন অন্যতম। তাঁর বাবা পাইরে লাল সিং বেদী একজন পাঞ্জাবী শিখ। তিনি একজন লেখক এবং দার্শনিক ছিলেন।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে বেদী টিভি এবং রেডিও উপস্থাপিকা নিক্কি বেদীকে বিয়ে করেছিলেন। ২০০৫ সালে তাদের কোনও সন্তান ছিল না এবং বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর পরে বেদী ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত পারভীন দুসানজের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁর ৭০তম জন্মদিনের আগে যাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন।

 

মডেলিং, সিনেমা, টেলিভিশন, থিয়েটার, বেতার। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কেরিয়ার বিস্তৃত ভারত, আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপেও। বিনোদনে সুদর্শন পুরুষদের মধ্যে অন্যতম, কবীর বেদী।
তাঁর জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, অবিভক্ত ভারতের লাহৌরে। তাঁর বাবা পেয়ারেলাল সিংহ বেদী ছিলেন লেখক ও দার্শনিক। মা, ফ্রিডা বেদীর জীবনও বেশ অভিনব। তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান গভীর। শেষ জীবনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
কবীরের স্কুল ছিল নৈনিতালের নামী প্রতিষ্ঠান শেরউড কলেজ। স্নাতক হন দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে। অভিনয়ে হাতেখড়ি থিয়েটারে। ওথেলো থেকে তুঘলক— সব ভূমিকায় তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি, ১৯৭১ সালে, ‘হালচাল’। এখনও পর্যন্ত অভিনয় করেছেন ষাটটিরও বেশি ভারতীয় ছবিতে। ‘তাজমহল: অ্যান ইটারনাল লভ স্টোরি’ ছবিতে শাহজাহানের ভূমিকায় কবীর বেদীর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এ ছাড়া ‘কচ্চে ধগে’, ‘খুন ভরি মাং’, ‘ম্যায় হু না’ ছবিতেও তিনি অনবদ্য।
ভারতে হিন্দি ও দক্ষিণী ভাষার ছবির পাশাপাশি চুটিয়ে অভিনয় করেছেন বিদেশি ছবিতেও। জেমস বন্ড সিরিজের ‘অক্টোপুসি’-তে তিনি খলনায়কের সহকারী। বলিউডে তাঁকে শেষ বার দেখা গিয়েছে ২০১৮ সালে, ‘জানে কিঁউ দে ইয়ারোঁ’ এবং ‘সাহেব, বিবি অউর গ্যাংস্টার থ্রি’ ছবিতে।
সুদর্শন চেহারা এবং ব্যারিটোন কণ্ঠের জন্য টেলিভিশনেও দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন কবীর বেদী। ভারতের পাশাপাশি মার্কিন ও ইতালীয় টেলিসিরিজে কবীর বেদীর কাজ উল্লেখযোগ্য। হিন্দি, ইংরেজির মতো তিনি ইতালীয় ভাষাতেও সমান সাবলীল। ব্যারিটোন কণ্ঠস্বরের জন্য কবীর বেদী একজন প্রতিষ্ঠিত ডাবিং শিল্পী। ভারতীয় বিজ্ঞাপনেও তাঁর কণ্ঠ খুবই জনপ্রিয়।
কাজের মতো কবীর বেদীর ব্যক্তিগত জীবনও বর্ণময়। ১৯৬৯ সালে তিনি বিয়ে করেন প্রতিমা বেদীকে। দাম্পত্য ভেঙে যায় ১৯৭৪-এ। মনে করা হয়, পরভিন বাবির সঙ্গে সম্পর্কই কবীর-প্রতিমার বিচ্ছেদের কারণ।
কবীর-প্রতিমার মেয়ে পূজা বলিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ। পূজার ভাই সিদ্ধার্থ আত্মঘাতী হন বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময়। তিনি স্কিত্‌জোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন মাত্র বাইশ বছর বয়সে।
তবে পরভিনের সঙ্গে কবীরের সম্পর্কও স্থায়ী হয়নি। যে সময়ে প্রতিমার সঙ্গে তাঁর বিয়ে ভেঙেছিল, সেই সময়েই তিনি পরভিনের সঙ্গে সম্পর্কও শেষ করে দিয়েছিলেন।
পরভিনের সঙ্গে ব্রেক আপের পরে কবীর বেদীর সঙ্গে আলাপ মার্কিন মডেল সুজান হাম্পফ্রে-এর। আমেরিকায় মডেলিং করতে গিয়ে দু’জনের আলাপ। সুজানকে বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে। তবে কবীরের দ্বিতীয় বিয়েও দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। ভেঙে যায় ১৯৯০ সালে।
পরভিনের সঙ্গে ব্রেক আপের পরে কবীর বেদীর সঙ্গে আলাপ মার্কিন মডেল সুজান হাম্পফ্রে-এর। আমেরিকায় মডেলিং করতে গিয়ে দু’জনের আলাপ। সুজানকে বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে। তবে কবীরের দ্বিতীয় বিয়েও দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। ভেঙে যায় ১৯৯০ সালে।
১৯৯১ সালে লন্ডনে কবীরের সঙ্গে আলাপ নিক্কি মুলগাওকরের। বয়সে কুড়ি বছরের ছোট, রেডিয়ো ও টেলিভিশনের সঞ্চালিকা নিক্কি-কে ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন কবীর। তেরো বছর পরে ২০০৫ সালে ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য।
তৃতীয় ডিভোর্সের পরে এগারো বছর বিয়ে করেননি কবীর। ২০১৬ সালে, নিজের সত্তরতম জন্মদিনের ঠিক দু’দিন আগে তিনি বিয়ে করেন পরভিন দুসাঞ্জকে। কবীরের থেকে পরভিন বয়সে ছাব্বিশ বছরের ছোট। কবীর-প্রতিমার মেয়ে পূজার থেকে তিনি বয়সে তিন বছরের ছোট।
সত্তর বছর পূর্তির জন্মদিনের পার্টিতে কবীর প্রকাশ্যে আনেন তাঁর চতুর্থ বিয়ের কথা। পার্টিতে বেশির ভাগ অতিথিই জানতেন না এই বিয়ে নিয়ে। অতিথি অভ্যাগতদের সঙ্গে কবীর বেদী আলাপ করিয়ে দেন স্ত্রী পরভিনের সঙ্গে।
তবে বাবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি কবীর বেদীর মেয়ে পূজা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানালেও শোনা যায়, বাবা-মেয়ের সম্পর্কের ফাটল আর জোড়া লাগেনি।

 

সূত্র: আনন্দবাজার


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ