‘পদ্মভূষণ না পাওয়া’ আমার অহংকার

আসিফ নজরুল

পদ্মভূষণ পদক পেলে প্রতিবাদ জানিয়ে সেটি গ্রহণ করতেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই কথা জানান তিনি।

তিনি লিখেন, ‘যদি আমি ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ বা অন্য কোন উপাধি পেতাম তাহলে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতাম বা পরে ফিরিয়ে দিতাম। এজন্য পদ্মভূষণ দূরের কথা, কোলকাতার তৃতীয় শ্রেণির কোন পুরষ্কারও জীবনে কখনো পাবো না। আরো অনেক প্রতিভাধর হলেও পেতাম না। এটা বরং অনেক বড় অহংকার আমার।’

এর আগে ‘জাতির অভিভাবক!’ শিরোনামে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ কাউকে জাতির অভিভাবক, বিবেক বা বাতিঘর বানিয়ে দেয়ার বাতিক আছে আমাদের। বিশেষ করে কারো মৃত্যুর পর।

আমি ভাবি, এ জাতির এতো এতো অভিভাবক, তাহলে এমন দুর্গতি কেন আমাদের? কেন তাদের চোখের সামনে আমরা একটা স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হলাম, দেশের সম্পদ লুটে কোষাগার আর ব্যাংক খালি করে দিলাম, বিনা বিচারে গুমের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হলাম, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কয়েকটা জেনারেশন শেষ করে দিলাম, দিনের ভোট আগের রাতে সেরে নিলাম, সীমান্তে অকাতরে প্রান দিলাম, দেশের সংস্কৃতিকে গ্রাস করতে দিলাম। আরো কতো কিছু!

প্রশ্ন আসে, আমাদের আসলে কোন অভিভাবক ছিলেন কি নিরবচ্ছিন্ন? কেউ কেউ অবশ্যই অনেক বড় মানুষ ছিলেন, ব্যাক্তি বা কোন বিশেষ মূল্যবোধের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু তারা জাতির অভিভাবক ছিলেন কি? যদি তাই হন তাহলে বলতে হবে, আমরা আসলে কিছু শিখিনি তাদের কাছ থেকে।

আমি যেসব দেশে ছিলাম অনেকটা সময় (বৃটেন, আমেরিকা, জার্মানী) সেখানে সবসময় পত্রিকা পড়তাম, নিউজ দেখতাম। কিন্তু সেখানে জাতির কোন অভিভাবক দেখিনি। দেখেছি অনেক গুণী মানুষ আর অসংখ্য সুনাগরিক।
সেটা বোধহয় বেশী প্রয়োজন আমাদের।’


মন্তব্য