দুই শ্রেণির মানুষের ফজলে হাসান আবেদ পাঠ জরুরি

  © সংগৃহীত

১. এদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও শহুরে উচ্চবিত্তের সন্তানরা যাদের অনেকেরই একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান সাদা চামড়ার দেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে সেটেল হওয়া। এদেশের বায়ু দূষিত, রাজনীতি কলুষিত, সড়ক অনিরাপদ, খাদ্যে ভেজাল, আর জীবন অনিশ্চিত--এই হলো অভিযোগ। যাদের একাংশ ইন্টারমেডিয়েটের পর বিদেশে আন্ডারগ্র‍্যাজে ভর্তি হয়। তারপর আর আসেনা।

উচ্চবিত্তের সন্তান বলে বাবা-মাকে টাকা পাঠাতে হয় না। ফলে কোন রেমিট্যান্সও আসে না। আরেকাংশ এদেশে গ্র‍্যাজুয়েশান শেষ করে বিদেশে পাড়ি দেয়। দেশ তাদের মূল্যায়ন করবেনা (যদিও এটা শতভাগ সত্য), ভালো মানের চাকরি পাবে না সেই অভিযোগে স্থায়ীভাবে বিদেশে সেটেল হয়।

স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবনও এমন হতে পারতো। তার মৃত্যু হতে পারতো লন্ডনের কোন ওল্ডহোমে, অন্য দশজনের মত। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। লন্ডনের ভালো চাকরি ছেড়ে, লন্ডনে নিজের বাড়ি বিক্রি করে দেশে ফিরে আসলেন, ব্র‍্যাক প্রতিষ্ঠা করলেন। লাখো মানুষ তার মৃত্যুতে শোকবিহবল।

এই বাংলাদেশই তাকে আজকের আবেদ বানিয়েছে, লন্ডনে ‘হি ইজ জাস্ট নোবোডি’। বিদেশে পড়তে গিয়ে সেটেল হওয়া অনেক মেধাবীরই ফজলে হাসান আবেদ হওয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু এমন অনেক মেধাবীই এখন সাদা চামড়ার দেশের ‘নোবোডি’।

২. সরকারি চাকরিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় জিরো কন্ট্রিবিউট করা তরুণ সমাজ (এর মধ্যে আমিও আছি)। বলতে পারেন, সরকারি চাকরি করে আমি মানুষের সেবা করতে চাই, যেটা অর্থনীতিতে অবাদান রাখবে।

ভুল। ঐ চাকরিতে আপনার অনেক বিকল্প আছে। আপনি সাব-রেজিস্ট্রার (রূপকার্থে) হয়ে যে কাজ করছেন, বিশ্বাস করেন, আপনি সেখানে না গেলে ঐ পদে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার লোক বসে আছে। তারা হয়তো আপনার থেকেও বেশি সৎ, অনেক বেশি দক্ষ।

তার মানে, আপনার ঐ চাকরিতে যাওয়ায় আপনি ও আপনার পরিবার লাভবান হয়েছে, কিন্তু দেশের কোন লাভ নাই বললেই চলে। কারণ ওই কাজের জন্য আপনার বিকল্প আছে। কিন্তু ফজলে হাসান আবেদের বিকল্প নাই।

শত কোটি টাকা ট্যাক্স দেয়া আড়ং-এর বিকল্প নেই। ব্র‍্যাক, ব্র‍্যাক সীড, ব্র‍্যাক নার্সারির বিকল্প নাই। আবেদ না থাকলে অন্য কেউ আড়ং গড়ে তুলতে পারতো না, ব্র‍্যাক গড়ে তুলতে পারতোনা।

অনেকেই ফজলে হাসান আবেদের সমালোচনা করে বলেন, আবেদের প্রতিষ্ঠান সুদ ভিত্তিক। ওকে, আপনি আবেদ থেকে শিক্ষা নেন। এমন কিছু করেন যেখানে সুদ খাওয়া লাগেনা। ব্র‍্যাকের মত এমন প্রতিষ্ঠান করেন যেখানে লাখো যুবকের কর্মসংস্থান হবে, লাখো মানুষ সুদ ছাড়া সেবা পাবে।

আড়ং-এর মত একটা প্রতিষ্ঠান দেন যেখান থেকে সরকারকে শত কোটি টাকা রাজস্ব দেবেন। এমন একটা প্রতিষ্ঠান দেন যেটার কোন মালিকানা নাই। পারবেন?

যাই হোক, ফজলে হাসান আবেদ আমার কাছে একজন আকাশচুম্বি স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন কিংবদন্তি। আমরা যারা ভালো চাকরি করি বলে, অথবা বিদেশে সেটেল হয়ে নিজেকে সফল মনে করি, তাদের জন্য আবেদের জীবন হোক নতুনভাবে জীবনকে ভাবার, সফলতাকে নতুনভাবে ডিফাইন করার প্রেরণা।

লেখক: গবেষক ও ফ্রিল্যান্স রাইটার
ই-মেইল: fariddu100@gmail.com


সর্বশেষ সংবাদ