নিজ দলের বোনদের উপর ছেলেদের হামলা হজম করতে পারছি না

গোলাম কুদ্দুছ ভাইয়ের জন্মদিনের পার্টিতে ছিলাম। সাড়ে আটটার দিকে ছোটবোন ফাল্গুনীর ফোন -আপু শ্রাবণী আপুকে অনেক মারছে, অনেক রক্ত বের হয়ছে। উনি কই আছে আমি জানি না। আপনি একটু খোঁজ নেন। সাথে সাথেই শ্রাবণীকে ফোন করলাম। ফোনটা ধরলো শামসুন্নাহার হলের এক ছোটবোন।

ও জানালো ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সিতে আছে। মিনিট দশেকের মধ্যেই ঢামেকের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছালাম। মেয়েদের হলের সব পরিচিত মুখগুলো ইমার্জেন্সির বিছানায় সারি সারি শুয়ে আছে। 

ওখানে যেয়ে জানতে পারলাম, শ্রাবণীর সেলাই লাগবে তাই ওকে তিনতলায় নিয়ে গেছে। সেলাই টিটিনাস দেওয়ার পর ওকে আমার বাসায় নিয়ে আসি। মেয়েটা হাসপাতালে যখন আমার হাত ধরে কাঁদছিলো কিছু বলতে পারিনি। ওর মা হার্টের পেশেন্ট। টিভির খবরে মেয়ের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে ফোনের ওপাশে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন।

আমি সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে বের হয়ে আসি।

কিছুক্ষণ পর শোভন-রাব্বানী শ্রাবণীকে দেখতে আসে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে ওরা ওদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলো। নানক ভাই আশ্বাস দিলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সনজিত ওর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়ে একটু আগে বাসা থেকে গেলো।

ঘটনার পর থেকে আমি নিজেই কেমন যেন একটা ট্রমার মধ্যে আছি।

এশার কথা মনে আছে আপনাদের? ছাত্রলীগ করতে যেয়ে মেয়েটাকে জুতার মালা পরতে হয়েছিল। মেয়েটাকে আমি, জসীম ভাই,  শাহীন আর মুক্তি আপু প্রথম দেখতে গিয়েছিলাম। ওর সেই কান্না, সেই হাহাকার আজো ভুলিনি। মেয়েটাকে একটা সদস্যও করা হয়নি।

ডাকসুতে সবগুলো মেয়েদের হলে যখন ভরাডুবি হয়, একমাত্র রোকেয়া হলে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আর সেটা সম্ভব হয়েছিল শ্রাবণীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। আজ সেই কর্মনিষ্ঠার পুরস্কার পেলো শ্রাবণী। ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কোথাও জায়গা নেই মেয়েটার। উল্টো ওকে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠানো হলো।

শোভন-রাব্বানী, আমি এখনো তোমাদেরকে বিশ্বাস করি, করতে চাই। তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের দেয়া কথা রাখবে?

বিরোধীদলে ছাত্রদল আর পুলিশের হামলায় আমার তিনবার হাত ভেঙেছিল। এতটা কষ্ট পাইনি। নিজ দলের ছেলেরা আমার বোনদের উপর এভাবে হামলা করলো, ব্যাপারটা এখনো হজম করতে পারছি না। তদন্ত কমিটির তদন্ত যেন আলোর মুখ দেখে। ত্যাগী ও বঞ্চিতদের মার খাওয়া আর দেখতে চাই না।

লেখক: সম্পাদক, বিবার্তা২৪.নেট


মন্তব্য