নজরুল সংগীতের স্বরলিপি নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা

বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং বাংলা সংগীতের অনন্য রূপকার হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুল রচিত গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশী। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় রচিত সব গানের স্বরলিপি করে যেতে পারেন নি। নজরুলের এসব রেখা যাওয়া সৃষ্টি বর্তমান সময়ে অনেকাংশে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়েছে।

১৯৮৫ সালে ২৮ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি ১ এর ক, খ, গ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে, ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কবি নজরুল সুস্থ ও সচেতন থাকা অবস্থায় তাঁর নিজস্ব সুরারোপিত যে সব গানের রেকর্ড হয়েছে সেই রেকর্ড থেকে ক্যাসেটে ধারণ করা গানের স্বরলিপির শুদ্ধতা যাচাই, প্রমানীকরণ ও সত্যায়ন করতে হবে।

আবার ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত কিছু প্রতিযশা শিল্পী যারা কবির সান্নিধ্য ও সহচর্য পেয়েছিলেন তাদের গাওয়া রেকর্ডকৃত গানের স্বরলিপি প্রণয়নের ব্যাপারে শুদ্ধতা যাচাই, প্রমানীকরণ ও সত্যায়ন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে কেউ কেউ নিজের ইচ্ছামতো নজরুলের গানের স্বরলিপি প্রনয়ণ করে চলছেন। আবার অন্যের করা স্বরলিপি হুবহু নকল করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন।

ব্রহ্মমোহন ঠাকুরের সম্পাদনায় মে ২০০৩ সালে প্রণীত দুটি গানের স্বরলিপি ড. অসিত রায় তাঁর অপ্রকাশিত নজরুল সংগীত স্বরলিপি প্রথম খণ্ডে হুবহু একই রকমভাবে প্রণয়ন করেছেন। সেই ক্ষেত্রে নজরুল ইন্সটিটিউট যাচাই বাছাই, সত্যায়ন ও প্রমানীকরণ না করে কিভাবে এসবের অনুমোদন দিল সেটা বোধগম্য নয়। এ ক্ষেত্রে নজরুল ইন্সটিটিউটকে এ ধরনের কাজের ব্যাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে মনে হয়।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ